মৎস্য উৎপাদন-রপ্তানি-প্রক্রিয়াকরণ
পরিদর্শনে আসছে ইইউ-এফভিও মিশন
ঢাকা: চিংড়ি ও মাছ উৎপাদনে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ও উহার অবশিষ্টাংশের অবস্থা এবং চিংড়ি ও মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে বাংলাদেশে আসছে ইইউ-ফুড এন্ড ভেটেরিনারি অফিস-এফভিও অডিট মিশন।
সোমবার এ মিশন বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ মিশন আগামী ২০-৩০ এপ্রিল এফভিও অডিট মিশন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় চিংড়ি মাছের খামার/ঘের, মাছধরার ট্রলার, মাছ ধরার প্রক্রিয়া, প্যাকেজিং প্রক্রিয়া, ঔষধের ব্যবহার, মাছের খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং রাসায়নিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করবেন।
২০১১ সালে সর্বশেষ ইইউ-এফভিও অডিট করে এবং ঐ অডিটের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় গত ৪ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোতে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশ চিংড়ি ও মৎস্যপণ্য রপ্তানীর সুবিধা পাচ্ছে। চিংড়ি রপ্তানীকারক অন্যসব দেশ এ সুবিধা পায়নি। এফভিও রপ্তানীকারক দেশগুলোতে প্রতিবছর অডিট করলেও মৎস্য রপ্তানী প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি না থাকায় চার বছর পর এ অডিট হচ্ছে। এ বছরের অডিট রিপোর্টের ফলাফল সন্তোষজনক হলে কোনো পরীক্ষা ছাড়া মাছ রপ্তানীর যে সুযোগ বাংলাদেশ পাচ্ছে তা অব্যহত থাকবে।
মাছ ও চিংড়ি উৎপাদন খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখে আসছে। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানীখাত। গত অর্থবছরে ৭৮ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি ও মাছ রপ্তানী করে বাংলাদেশ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। যা রপ্তানী আয়ের ২.৫ শতাংশ। মৎস্য ও মৎস্যপন্য রপ্তানীর ৭০ শতাংশ রপ্তানী হয়ে থাকে ইইউভূক্ত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসহ প্রভৃতি দেশে।
তিন সদস্যের অডিট মিশন ৩০ এপ্রিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অডিটের বিষয়ে সমাপনী মতবিনিময় করবেন।
উল্লেখ্য, মাছের খাদ্যের মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে অডিট করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশসমূহে মৎস্য ও মৎস্যপন্য ইইউ-রেজুলেশন অনুসারে স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় রপ্তানী হচ্ছে কিনা, এফভিও মিশন তা অডিট করে থাকে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিআইএস/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








