দাম কমেছে মোটা চালের
ঢাকা: বাজারে মোটা চালের (স্বর্ণা/ চায়না ইরি) দাম কমেছে প্রতি কেজিতে তিন টাকা। বর্তমানে বাজারে এ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৭ টাকা দরে। যা গতমাসে একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা।
শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে দাম কমার হিসেবে মোটা চালের দাম শতকরা হিসেবে কমেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, বছর হিসেবে দাম কমেছে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
চালের দরকমার বিষয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ববাজারের পণ্যের দাম কমতির পাশাপাশি পাশ্ববর্তী দেশে (ভারত) চালের দাম কমাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে চালের দাম কমলেও আলুর দাম বৃদ্ধি পেছে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা, বাজারে প্রতিকেজি গোল আলু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ২২ টাকা, যার সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগীর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা, মুরগী (দেশি) ও গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা, রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে (আমদানি) মানভেদে ১০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের বাজার দর অপরিবর্তিত রযেছে বলে জানিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
চালের বাজারে নাজির মিনিকেট (সাধারণ মানের) বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, যা গত মাসে এই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা। এ হিসেবে এক মাসে চালটির দাম কমেছে ২ দশমিক ২৭ শাতাংশ। ভালো মানের এ চাল গত মাসে বিক্রি হয়েছে ৪৮ তেকে ৫৬ টাকা যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। শতাংশ হিসেবে এর দর কমেছে দশমিক ৯৬ শতাংশ।
নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার জাহান তালুকদার নিউজবাংলাদেশকে জানান, “চালের দম কমটা স্বস্তিদায়ক। টিসিবির বাজার চিত্রে এ তথ্য উঠেএসেছে। ঠিক কি কারণে চালের দাম কছে এবং কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে তা বলতে পারবো না। কারণ টিসিবি শুধুমাত্র সরেজমিনে বাজারের সঠিক চিত্র তুলে ধরে।”
চালের বাজার দর কমার বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “বর্তমানে বিশ্ব বাজারের প্রায় সব পণ্যের দাম কমতির দিকে। সেই প্রভাব আমাদের দেশে পড়বে। পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে চালের দাম কমেছে সে জন্য আমাদের বাজারেও চালের দাম স্বাভাবিক, অনেক ক্ষেত্রে কমতে শুরু করেছে।”
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “প্রথমিকভাবে চারটি বিষয়কে চিহ্নিত করা যেতে পারে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া; যানবাহন চলাচলে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা কেটে যাওয়া; পাশ্ববর্তিদেশের মূদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হার ইতিবাজক থাকা এবং ব্যাপক আমদানি; বোরো ধানের উঠার সময় ঘনিয়ে আসা।” তবে চালের দাম কমার বিষয়ে সিপিডি এখনো কোন গবেষণা শুরু করেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের চাল ব্যবসায়ী আলম বলেন, “প্রতিবছর এ সময় চালের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কিন্তু এবার কম। হরতাল-অবরোধের কারণে সময়মতো চাল বাজারে আসতে সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় মজুদকারীরা বেশি হারে বাজারে চাল সরবরাহ করছে। এ জন্য দাম কমছে। আর বাজারে বোরো মৌসুমের চাল আসার মসয় হয়েছে। সে জন্য সামনে চালের দাম আরো কমতে পারে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








