News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ২০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৬:৩১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

টাইগারদের ফুরফুরে মেজাজ: প্রত্যয় আরও ভালোর

টাইগারদের ফুরফুরে মেজাজ: প্রত্যয় আরও ভালোর

ঢাকা: শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর সোমবার টিম হোটেলে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে কাটিয়েছেন মাশরাফিবাহিনী।

এদিন হোটেলের ড্রেসিংরুমে আনন্দের আতিশয্যে জয়ের গান গেয়েছে তারা। টিম হোটেল থেকে জাতীয় দলের স্পিনার আরাফাত সানী এমন কথাই জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ তেই জিততে চান টাইগাররা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিয়ে জাতীয় দলের স্পিনার সানী আরও বলেন, “এক বছর আগেও ভাবি নি, বিশ্বকাপ খেলবো কি না। পরের সিরিজে থাকবো কি না তাও জানি না। বিশ্বকাপের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে অনেক দল একসাথে থাকে। পুরো বিষয়টা অন্য রকম। হোম সিরিজ আর বিশ্বকাপের ব্যাপারটা এক নয়।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিয়ে তিনি বলেন,“ওদের হারিয়ে দিবো এভাবে আমরা ভাবি নাই। তবে পরিকল্পনা ছিল দলবদ্ধ হয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার। আমরা জানতাম ভালো ক্রিকেট খেললে ওদের হারাতে পারবো। যেকোনো দলের বিপক্ষেই এটা সম্ভব।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে এভাবে সিরিজ জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এ স্পিনার বলেন,“এতো বড় ব্যবধানে জিততে পারবো এমন চিন্তা করিনি। আমরা কেবল যার যার দায়িত্ব নিয়ে সচেতন ছিলাম। পাকিস্তানকে হারাতে পারায় বিস্মিত হইনি। আমাদের বিশ্বাস ছিল যে, ভালো ক্রিকেট খেললে ওদের হারাতে পারবো।”

শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর কেনো উদযাপন করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সাধারণত দলের সাফল্যে আমরা টিম-গান গাই। সেভাবেই উদযাপন করেছি এবারের বিজয়। সবাই ভালো খেলার জন্য মনোযোগী ছিল। অল্পতে খুশি হলে বিপদ। এটাই শেষ সিরিজ নয়, সামনে আরও সিরিজ আছে। এখন আমরা যতো জিতবো, আত্মবিশ্বাস ততো বাড়বে। অনুপ্রেরণাও বাড়াবে।”

প্রধানমন্ত্রীর মাঠে উপস্থিতি নিয়ে জাতীয় দলের তরুণ স্পিনার বলেন,“প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ততায় থাকেন। তারপরও তিনি যে খেলা দেখতে আসেন, এটা খুব ভালো লাগে। আমরা জাতি হিসেবেই ক্রিকেটের প্রতি খুব আবেগি। গতকাল ম্যাচ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের জন্য এটি দারুণ অনুপ্রেরণার।”

তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, যদিও জিততে পারিনি। আপনারা ম্যাচগুলো দেখলে বুঝবেন, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। বড় ও ছোট দলের মধ্যে পার্থক্য হলো অভিজ্ঞতা। সেখানেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি।”

নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন,“কোনো ম্যাচ খেলতে নামলেই আমার মনে হয়, প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছি। যখনই সুযোগ পাই, খেলাটা উপভোগ করতে চাই। আসলে ওয়ানডে ক্রিকেট অনেক কঠিন হয়ে গেছে। পাঁচজন ফিল্ডার সার্কেলের ভিতরে রেখে বোলিং করতে হয়। সেটার জন্য একটু ডিফরেন্ট প্ল্যানিং করতে হয়। গতিতে বৈচিত্র্য আনতে হয়। সেটাই এখন চেষ্টা করছি।”

ওয়ানডে সিরিজের পর টেস্ট নিয়ে তার পরিকল্পনা জানতে চাইলে বলেন, “আমার যে ধরনের বোলিং তা নিয়ে আপাতত ওয়ানডে নিয়েই ভাবছি। এখানে আগে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই। পরে যদি টেস্টের জন যোগ্য হই, তবে হয়তো টেস্টও খেলবো।”

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবেন এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ভাবছি না। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। ভালো ক্রিকেট খেলে হারলে মন খারাপের কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপেও হয়তো দেখেছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলে হেরেছি। ওরকম হারে মন খারাপ হয় না। আমরা এখন সেভাবেই চিন্তা করছি। হোয়াইটওয়াশের চিন্তা না করে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চিন্তা করছি।”

পাকিস্তান দল নিয়ে তিনি বলেন, “ওরা আমাদের চেয়ে দুর্বল, এটা আমি মনে করি না। তবে আমাদের দলে বেশ কজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। সে তুলনায় ওরা একটু অনভিজ্ঞ। দুতিনটা সিরিজ খেললে ওরাও গুছিয়ে নিতে পারবে।”

তামিম ও মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে তরুণ স্পিনার বলেন, “তামিম-মুশফিক অসাধারণ ব্যাটিং করছে। ওরা এতো ভালো ক্রিকেটার যে, ওদের নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেমন ব্যাটিং প্রয়োজন, সেটাই ওরা দুজন করছে।”

দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলতে চান। জাতীয় দলে খেলার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় দলে থাকতেই হবে বা ভালো খেলতেই হবে, এভাবে আমি ভাবি না। এটা আমার কাছে অতিরিক্ত চাপের বিষয়। পারফর্ম করতে পারলে আমি দলে থাকবোই। এটা নিয়ে আগে থেকে চিন্তার কিছু নেই। পারফর্ম করতে না পারলে দলে থাকা যাবে না।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়