News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:৪৪, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

তামিমেই সিরিজ জয়ের উদযাপন

তামিমেই সিরিজ জয়ের উদযাপন

ঢাকা: বিশ্বকাপের মাঝ পর্ব থেকেই সমালোচকদের বিষাক্ত তীরে বিদ্ধ হচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। কারণ ব্যাটে সেভাবে রান নেই। বিশ্বকাপের ছয় ম্যাচের আমলনামা ১৯, ০, ৯৫, ২, ১৩ ও ২৫। একটি ম্যাচ জয়ী ইনিংস বিবেচনায় নিলে খুব খারাপ কিছু না। কিন্তু তারপরও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তামিমের দলর্ভূক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। শুক্রবার মিরপুরের সন্ধ্যায় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তার জবাব দিয়েছেন টাইগার ওপেনার।

একদিন বাদে সেই তামিম ইকবালের হাতে আবারো খুন পাক বোলাররা। এদিন বাংলাদেশ ওপেনারের ক্ষুরধার ব্যাটের সামনে নূন্যতম দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি ওয়াহাব রিয়াজ-রাহাত আলিরা। তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশের। রোববার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের কাছে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে সফরকারী পাকিস্তান। আর তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা।

সমালোচকদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ফুটবলে সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র মারিও বালোতেল্লি। ২০১১ সালের অক্টোবরে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গোল করে অদ্ভূত উদযাপন করেছিলেন ম্যানসিটির ইতালিয়ান স্ট্রাইকার। নিজের জার্সি উচিয়ে সবাইকে বুকের মধ্যে একটি লেখা দেখিয়েছিলেন, ‘হোয়াই অলওয়েজ মি? সব সময় আমি কেন? তামিম ইকবালও আজ্জুরি ‘ব্যাড বয়’কে অনুসরন করতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও অনর্থক কোনো বিতর্ক ঘটাননি তামিম। এমনকি দলকে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দেয়ার পরও নির্বিকার ছিলেন দেশসেরা ওপেনার। তা থাকারই কথা। কারণ, মুখের বদল তার ব্যাটই যে কথা বলেছে! বলতে চেয়েছে- দেখ আমিই দেশসেরা ওপেনার। এখনো মরচে পড়েনি আমার ব্যাটে। পাকিস্তানের বোলারদের কাছে যান, সেটার প্রমাণ পাবেন?

এদিন পাকিস্তান দলের প্রথম ইনিংসের মাঝ পথেই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়েছিল। যখন ২১.৩ ওভারে ৭৭ রানে পাঁচ উইকেট হারায় ওয়াকার ইউনিসের শিষ্যরা। পরে অবশ্য গল্পটা একটু বদলে দিয়েছিলেন সাদ নাসিম ও ওয়াহাব রিয়াজ। আগের ম্যাচে ‘ডাক’ মারা নাসিম ৯৬ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর ওয়াহাব রিয়াজ ৪০ বলের ৫১ রানের বির্ধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তাতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩৯ রান জমায় পাকিস্তান। দুটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। একটি করে উইকেট মাশরাফি, সানি, রুবেল ও নাসিরের।

ওয়ানডের সাম্প্রতিক কুষ্ঠি বিচারে ২৩৯ রান খুব বড় নয়। কিন্তু তারপরও ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় টইটম্বুর হয়ে কেউ হয়তো সামান্য শঙ্কার মধ্যে পড়তেই পারেন। লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামতেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে কালো সেই মেঘটা ঝেটিয়ে বিদায় করেন তামিম ইকবাল। সৌম্য সরকার প্রতিশ্রুতি দেখিয়েও ১৭ রানেই থেমে যান। মাহমুদউল্লাহও পারেননি। ১৭ রান করে আউট হন তিনি। ৬৫ রান করে থামেন মুশফিক।

তবে তামিম ছিলেন অনড়। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। ৩৮.১তম ওভারে। ইনিংসের ৭১ বল বাকি থাকতেই। ১১৬ রানের ইনিংসে ১১৬ বল মোকাবেলা করেন তামিম। থাকেন অপরাজিত। তার ইনিংসটিতে ১৭টি চারের মার ছিল। সাকিব আল হাসান ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের জুনায়েদ খান, রাহাত আলি ও সাঈদ আজমল একটি করে উইকেট নেন। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবাল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়