শিগগিরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল, নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস
ছবি: সংগৃহীত
দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করতে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ লক্ষ্যে শিগগিরই কাউন্সিলের দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (০৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে আরও জোরদার করা যায় এবং দ্রুত কাউন্সিল আয়োজন করা যায় এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করার বিষয়ে স্থায়ী কমিটি একমত হলেও প্রস্তুতির জন্য অন্তত কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি। ফলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেন মহাসচিব।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে মূলত সাংগঠনিক বিষয়, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ নেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলকে সুসংগঠিত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে নীতিনির্ধারণী ফোরামের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে দ্রুত কাউন্সিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব এবং সার্বিক জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সংরক্ষিত নারী আসন ইস্যু এই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না বলে জানান মহাসচিব।
যদিও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে: ফখরুল
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলের কার্যক্রম জোরদার ও তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর নতুন কাউন্সিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে নতুন করে প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি অংশ নেন নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি মির্জা আব্বাস।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় কিছু অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও বাকি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কৃষক কার্ডসহ কিছু উদ্যোগের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে উঠে আসে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পর দ্রুত কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর এটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে সরকার ও দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে পৃথকভাবে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মত দেন নেতারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








