News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৩:০৮, ২৩ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৬:৩২, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

তারেককে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্যকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

তারেককে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্যকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

ঢাকা: লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আনতে আবারও যুক্তরাজ্যের কাছে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। এই অনুরোধপত্রের সঙ্গে তারেক রহমানের অপরাধ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান চলছে। এর আগেও ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়ে তারেক রহমানকে ফেরত চায় বাংলাদেশ। সম্প্রতি ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর তারেক রহমানকে ফেরত আনার লক্ষ্যে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

ইতোপূর্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নোট ভারবাল (কূটনৈতিক পত্র) পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর। বিষয়টি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতরের বিবেচনাধীন আছে বলে এসব চিঠি থেকে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে ইন্টারপোলের কাছে আগেই অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। ইন্টারপোল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আগে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে। সরকার সে অনুযায়ী তথ্য ও নথিপত্র দেয়ার পর রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। যদিও কত তারিখ এই নোটিশ জারি হয়েছে তা উল্লেখ নেই ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে। রেড নোটিশ জারির পর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় অভিযোগের নথিপত্র সরবরাহ করা হবে।

২০ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি দেয়া হয়। যার বিষয় ছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি রহমান, তারেক জিয়া, ডোব; ২০ নভেম্বর ১৯৬৭ বে এক্সট্রাডিশনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য (ইউকে) হতে দেশে ফিরিয়ে আনার নিমিত্তে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব প্রেরণ প্রসঙ্গে।

এতে বলা হয়, মতিঝিল থানার মামলা নং ৯৭ তারিখ ২২-৮-২০১৪। মামলার ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত মামলার পলাতক আসামি তারেক রহমানের নামে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়, যা ২৪ মার্চ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর স্বীকার করে তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন আছে বলে জানায়। এ অবস্থায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির বিষয়টি যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। একইভাবে আইন মন্ত্রণালয়েও চিঠি দেয়া হয়েছে।

এর আগে ১৬ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আইন) স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণপত্র ১৯ মার্চ লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস-ইউকের মাধ্যমে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর নোট ভারবাল প্রাপ্তি স্বীকার করে তা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতরের বিচেনায় আছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (এনসিবি) মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আপডেট বলতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারির পর একজন আসামিকে ফেরত আনার জন্য বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। তাছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে কোনো আসামি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার নজির নেই। আবার যুক্তরাজ্য সরকার চাইলেই কাউকে দিয়ে দিতে পারে না। বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকলেও নয়। কারণ সংশ্লিষ্ট আসামি ওই দেশে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ আছে। বন্দিবিনিময়ের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ২০০৩ অনুযায়ী, আসামি ফেরত আনতে দূতাবাস বা সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সাজাপ্রাপ্ত হলে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এবং যুক্তরাজ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উপযুক্ত তথ্যসহ আদালতের আদেশের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চয়তা দিতে হবে ফিরিয়ে দেয়ার পর ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ ছাড়া অন্য মামলায় সাজা দেয়া যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে হবে।

এসব বিষয় নিশ্চিত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদন আমলে নিয়ে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন। একই সঙ্গে আবেদনটি যুক্তরাজ্যের আদালতের বিবেচনার জন্য পাঠাবেন। নিয়ম অনুযায়ী ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়। একটি প্রাথমিক শুনানির পর আদালত পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেন। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ২০০৩ এবং ইউরোপীয় হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮ বিবেচনায় নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালতের রায় আসামির বিপক্ষে গেলে তিনি উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পান। এ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি সরকারের সময় গ্রেফতার করার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক। সেদেশে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফই

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়