News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১২, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৩:৫৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা সিটি নির্বাচন

লেট দ্য বেস্ট ম্যান উইন: আনিসুল

লেট দ্য বেস্ট ম্যান উইন: আনিসুল

ঢাকা: নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রচার চালানোয় কোনো চাপ অনুভব করছেন না জানিয়ে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক বলেছেন, লেট দ্য বেস্ট ম্যান উইন।

রোববার সকালে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে থেকে দিনের গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। এখানে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।

এ সময় আনিসুল হক টেবিল ঘড়ি প্রতীকে রাস্তার দুপাশের দোকানদার, পথচারী ও স্থানীয়দের কাছে ভোট চান। তাকে দেখতে দুধারের ভবনগুলোর জানালায় ও সড়কে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমায়।

প্রচারণাকালে আনিসুল হক বলেন, “ঢাকার উত্তরের ভোটাররা একজন ভালো মেয়র চান। যার অভিজ্ঞতা আছে, যার ওপর ভরসা করা যায় এমন কাউকেই মেয়র হিসেবে চায় ভোটাররা। আশা করি, ২৮ তারিখ তারা সঠিক ব্যক্তিকেই ভোট দেবেন।”

 
তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনসংযোগ শুরু করায় তিনি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল বলেন, “উনি একটি দলের প্রধান। আমি তেমন কোনো চাপ অনুভব করছি না। ভোটারদের রাজনৈতিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে গিয়ে এমন কাউকে ভোট দেওয়া উচিত, যিনি ২৯ এপ্রিল সকাল থেকে নাগরিকদের জন্য কাজ শুরু করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “যার জন্য যে-ই নামুক না কেনো সেটা বড় কথা নয়। আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীই বড়। ভোটারগণ যদি অনুগ্রহ করে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেয়, সেদিক থেকে দৌড়ে আমারই এগিয়ে থাকার কথা। বহু বছর ধরে আমি মানুষের মধ্যে যাই, তাদের সঙ্গে কথা বলি। তারপরও নাগরিকরা যাকে সেরা মনে করবেন তাকেই ভোট দেবেন। লেট দ্য বেস্ট ম্যান উইন।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, “শহরের সমস্যাগুলো আমি জানি। এ জন্যই বলছি, সমস্যা চিহ্নিত, এবার সমাধানযাত্রা। নির্বাচিত হলে এই শহর সবুজ বানিয়ে দেবো। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, মাত্র ৫ লাখ গাছ লাগানো গেলে শহরের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য মাত্র ১১৭ কোটি লাগবে।”

এরপর তিনি হাঁটতে হাঁটতে নতুন বাজার জামে মসজিদ হয়ে কল্যাণপুর বস্তিতে গিয়ে হাজির হন। তার আগেই অবশ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক আনিসুল হকের সঙ্গে যোগ দেন। তিনিও টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে আনিসুল হককে নির্বাচিত করতে এলাকাবাসীকে আহবান জানান।

বস্তি মাঠে কয়েকশ বস্তিবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আনিসুল হক জানান, আপনারা হয়তো আমাকে চেনেন না, দেখেননি। এ সময় উপস্থিত অনেকেই চিৎকার করে বলে ওঠেন, আপনাকে টিভিতে দেখেছি। আপনাকে ভালো লাগে তাই ভোট দেবো।”
 
‘ব্যবসায়ী ও সংগঠক হিসেবে ২৫ বছর ধরে কাজ করছি। সৎ মানুষ বলে আমার সুনাম আছে। এই সুনাম কোনভাবেই নষ্ট করবো না। নষ্ট হতে দেবো না। বরং জনগণের পাশে থেকে ৫ বছর কাজ করবেন’ এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আনিসুল হক বলেন, “আপনাদের কাছে অনেকে অনেক কথা বলবে, লোভ দেখাবে কিংবা চাপ আসতে পারে। আপনারা চাপ বা লোভের কাছে নতিস্বীকার করবেন না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে যাকে যোগ্য মনে করেন, যে পাশে থেকে আপনাদের জন্য কাজ করবে বলে মনে করবেন তাকে ভোট দেবেন।”
 
তিনি আরও বলেন, “আমার ওপর আস্থা রেখে নির্বাচিত করুন, আমি শহরের বস্তিবাসীদের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করবো। আমাকে ভালো লাগলে ভোট দেবেন, অন্যকেও ভোট দিতে অনুরোধ করবেন।”

এরপর তিনি কল্যাণপুর মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসংযোগ চালান। বিকেলে মিরপুর ১৩ নম্বরে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে রুপনগর এলাকায় গণসংযোগের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়