সপ্তাহে ২ দিন হোম অফিসের ভাইরাল পরিপত্র নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সপ্তাহে দুই বা তিন দিন ‘হোম অফিস’ চালুর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্মারকপত্রকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে নিশ্চিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। একইসাথে জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে এ ধরনের ভুল তথ্য থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো পত্র জারি করা হয়নি। মন্ত্রণালয় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।
প্রসঙ্গত, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কিছু ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য সপ্তাহে দুইদিন হোম অফিসের সুযোগ, অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং অফিসের কাজের মোট সময় কমানো সহ কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস-হোম অফিস
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়নি। কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর নির্ধারিত হবে। তবে বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া স্মারক ছড়িয়ে পড়ায় মন্ত্রণালয় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।
মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলো আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সপ্তাহে তিনদিন সশরীরে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বাকি দুইদিন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে কাজ করবে। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া। জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাগুলো যেমন হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ এছাড়া কোনো নির্দেশনার আওতায় নয়।
মন্ত্রণালয় এই ঘটনার মাধ্যমে জনগণকে স্মরণ করিয়েছে, অফিস সময়সূচি পরিবর্তন বা হোম অফিস সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশিত হলে তা সরকারি সূত্র থেকে সর্বপ্রথম জানানো হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








