News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৭:২০, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:৪৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানি

পার পেয়ে যায় পুলিশ আর অপরাধীরা

পার পেয়ে যায় পুলিশ আর অপরাধীরা

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীর যৌন হয়রানির পর অনেকেই দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেনঃ

১. যৌন হয়রানি যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কি ব্যবস্থা নেয়া যায়?
২. পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার জন্যে আইনগত কি ব্যবস্থা নেয়া যায়?

প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- নারী নির্যাতন বন্ধে আমাদের কঠোর আইন আছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)। এই আইনের ১০ ধারায় এভাবে বলা আছে-

যৌন পীড়ন, ইত্যাদির দণ্ড
ধারা ১০৷ যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যুন তিন বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷

আইনটি এখানে দেখে নিতে পারেনঃ http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=835

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর একটু বিটকেলে- পুলিশ যেহেতু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তাই সরকারী চাকুরী বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পুলিশ পরিচালিত হয় মূলত পুলিশ আইন, ১৮৬১, পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল, ১৯৪৩ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের নিজস্ব কিছু প্রজ্ঞাপন থাকে যা সময়ে সময়ে প্রকাশ হয় তা তাদের মেনে চলতে হয়। পুলিশ যদি নিজে অপরাধের সাথে যুক্ত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইনে অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব। পুলিশ হেফাজতে বন্দিদের নির্যাতন ও মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রে ২০১৩ সনের পুলিশ হেফাজতে বন্দি নির্যাতন দমন আইনও বেশ কাজের।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যদি পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনতে হয় তাহলে সেটি করতে হবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আর পুলিশ তাদের তদন্তে পুলিশকে দোষী খুঁজে পাওয়ার ঘটনা খুব কম। অভিজিৎ হত্যাকান্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত, কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কোন প্রমাণ পায়নি। ২০১২ সনে রামু সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলে পুলিশ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে- তারাও পুলিশের অবহেলার কোন প্রমাণ পায়নি। এরকম উদাহারণের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে নিঃসন্দেহে। তাহলে প্রতিকার কি? অভিযোগ একজন করলে এবং অভিযোগ করে চুপ করে গেলে অর্থাৎ যদি ফলোআপ করা নাহয় তাহলে কোন কিছুরই আর পাত্তা থাকে না। অনেকে মিলে যদি অনেকগুলো অভিযোগ করেন এবং এর পেছনে যদি লেগে থাকা যায় তাহলে অনেককেই টেনে নামানো সম্ভব।

তবে পুলিশের অবহেলার জন্যে তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা আর দোষী ছাত্রদের বহিষ্কার করা- এই দুটি পার পাইয়ে দেয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সবাইকে। শুনেছি ওসি নজিবুল যিনি "রামুকান্ডে" ভূমিকা রেখেছিলেন বলে কথিত আছে তিনি এখন বান্দরবানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে পাঁচজন কুছাত্রকে বহিষ্কার করা হলো তারা হয়ত আবার অন্য কোনখানে ধর্ষণ করে বেড়াবে। "তাদের অপরাধের বিচার তো হলো না।" এভাবেই পার পেয়ে যায় পুলিশ আর অপরাধীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের লালনক্ষেত্র। শিক্ষকদের কেউ কেউ নিজেও ধর্ষক। তাছাড়া শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ না হলে তাদের পেছনে লাঠি দিয়েও তাদের শরীরে-মনে জোর আনা যাবে না। পদের জন্যে, পদোন্নতির জন্যে রাজনীতিবিদদের পদলেহন করতে করতে তারা নিজেরাই ক্লান্ত। পথ খুঁজতে গিয়ে নিজেরাই অন্ধকারে পথ হারিয়েছেন। তারা পথ দেখাবেন কি করে?

লেখক: আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফই

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়