ট্রাকের তলায় ঘুম, চাকা চলে গেল মাথার ওপর দিয়ে!
আরব আমিরাতের কুসাইস এলাকার ব্যস্ত এক ট্রাক স্ট্যান্ডে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত এক শ্রমিক একটু বিশ্রামের জন্য জায়গা খুঁজছিলেন। একসময় পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের নিচে গিয়ে বসেন তিনি। এভাবে পার্কিং করে রাখা ট্রাকগুলো সাধারণত দীর্ঘসময় অবস্থান করে। একপর্যায়ে তিনি শুয়ে পড়েন ট্রাকের `নিরাপদ ছায়ার` তলায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমের অতলে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্যরা দেখতে পান ট্রাকটি সেখানে নেই। কিন্তু তার তলায় একসাগর রক্তের মাঝে পড়ে আছে ওই লোকাটির মরেদহ। ট্রাকের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এরপর সিআইডি পুলিশের তৎপরতায় ঘাতক চালক ধরা পড়ে।
তবে চালক জানান, তিনি ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অর্থাৎ, তার ট্রাকের তলায় কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে তা তিনি জানতেন না।
সিআইডি পুলিশের ডেপুটি ডাইরেক্টর কর্নেল সালিম আল রুমাইথি বলেন, চালক ঘটনা জানতে পেরে খুব অবাক হন। তার দাবি ট্রাক স্টার্ট দিয়ে চালিয়ে আসার সময়ে চাকার তলে কিছু পড়েছে কি না- তা তিনি টের পাননি।
মর্মান্তিক এ ঘটনার শিকার শ্রমিকের সহকর্মীরা জানান, তাকে ক্লান্ত অবস্থায় ট্রাকের তলায় ঢুকতে দেখেছেন তারা। সে ভাবেনি যে চালক ট্রাকটি হঠাৎ ওইভাবে স্টার্ট করে চলে যাবে।
এ ঘটনা গত সোমবার দুপুরের। আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত পত্রিকার খবরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। শুধু লেখা হয়েছে `এশীয়`। আর ঘাতক চালকের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের পত্রিকাগুলোতে সাধারণত খুন, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনায় ভিকটিম (ঘটনার শিকার) বা অপরাধীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। তবে ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকদের প্রভাবাধীন অনেক পত্রিকায়ই দেখা যায়, কোনো অপরাধে বাংলাদেশি জড়িত থাকলে সেক্ষেত্রে তার জাতীয় পরিচয় প্রকাশ করা হয়। এর বিপরীতে কোনো ভারতীয় বা পাকিস্তানি অরাধমূলক কাজে জড়িত থাকলে এ সংক্রান্ত সংবাদে তা গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে অপরাধী ভারতীয় বা পাকিস্তানি না বলে বলা হয় `এশীয়` কিংবা `এক্সপ্যাট` অর্থাৎ বিদেশি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/একে
নিউজবাংলাদেশ.কম








