লিসবনে রেস্তোরাঁয় গুলিতে আহত ৩ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাঙালি অধ্যুষিত বেনফরমোসো রোডে অবস্থিত ‘উজান ভাটি’ রেস্তোরাঁয় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত তিন বাংলাদেশি নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে, আনুমানিক ১২টা ৩০ থেকে ১২টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রবাসী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই থেকে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকারে করে রেস্তোরাঁর সামনে এসে দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেস্তোরাঁর ভেতরে থাকা কর্মচারী ও ক্রেতারা জীবন বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন; কেউ টেবিলের নিচে, কেউ রান্নাঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন। গুলির শব্দে আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্রে আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, অন্তত তিন বাংলাদেশি পুরুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের বয়স ২৯ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তাদের একজনের বুকে গুলি লাগে, আরেকজন পায়ে এবং অপরজন মাথায় আঘাত পান।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজনের শরীরে সরাসরি গুলি লেগেছে, আবার কেউ কেউ হুড়োহুড়ির মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, রোগীসহ নিহত ৭
ঘটনার পরপরই পর্তুগালের জাতীয় পুলিশ বাহিনী Polícia de Segurança Pública (পিএসপি) ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এটি পূর্ব শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি নাকি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে।
লিসবনের মার্টিম মনিজ এলাকাজুড়ে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকা সাধারণত নিরাপদ হিসেবে পরিচিত ছিল; এমন ঘটনায় কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, আহতদের চিকিৎসা ও সম্ভাব্য আইনি সহায়তার বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের শান্ত থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এদিকে প্রবাসী সমাজ দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








