News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:১২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, রোগীসহ নিহত ৭

ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, রোগীসহ নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে দিল্লি যাওয়ার পথে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই চাতরা জেলার সিমারিয়া এলাকার ঘন জঙ্গলে বিমানটি আছড়ে পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বজ্রপাতকে এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

বেসরকারি বিমান সংস্থা 'রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড' পরিচালিত বিচক্রাফট সি৯০ মডেলের বিমানটি (টেল নম্বর: ভিটি-এজেভি) রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের প্রায় ২০ থেকে ২৩ মিনিট পর বারাণসী থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে থাকা অবস্থায় কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চাতরা জেলার সিমারিয়া থানার বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

চাতরার উপকমিশনার (ডিসি) কীর্তিশ্রী জি এবং মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা শুভম খন্ডেলওয়াল নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৮০

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন দুই পাইলট ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত ও ক্যাপ্টেন সরাজদীপ সিং; চিকিৎসাধীন রোগী সঞ্জয় কুমার (৪১); চিকিৎসক ডা. বিকাশ কুমার গুপ্ত; প্যারামেডিক শচীন কুমার মিশ্র এবং রোগীর দুই পরিচর্যাকারী অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

জানা গেছে, লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এক দুর্ঘটনায় শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে রাঁচির দেবকমল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

নিহত রোগীর আত্মীয় বিজয় কুমার জানান, তারা প্রথমে রোগীকে সড়কপথে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘ পথ যাতায়াতে ধকল সইতে না পেরে রোগী পথেই মারা যেতে পারেন। আকাশপথ নিরাপদ মনে করে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টে এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সপরিবারে প্রাণ হারালেন তারা।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হচ্ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি পথ পরিবর্তনের জন্য এটিসির কাছে অনুরোধও জানিয়েছিল। রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি প্রধান কারণ হতে পারে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে 'এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো' (এএআইবি)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দলটি ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের মাধ্যমে যান্ত্রিক ত্রুটি না কি আবহাওয়া—কোনটি মূল কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়