আজ পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের
ছবি: সংগৃহীত
এবারের আসর শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৪টি এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই উৎসব।
ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের।
নতুন ফরম্যাটের কারণে এবারের বিশ্বকাপ আগের যেকোনো আসরের চেয়ে আলাদা। ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপপর্ব শেষে ১২ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা ৮টি দল। ফলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অংশ নেবে মোট ৩২টি দল। এতে বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব বড় ফুটবল শক্তি। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পাশাপাশি রয়েছে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের মতো দল। তবে এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ নতুন কয়েকটি দেশের অভিষেক। উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার ফুটবলে উন্নতির যে ধারা দেখা যাচ্ছিল, এই দুই দলের সাফল্য তারই প্রতিফলন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন মুখ থাকলেও অনুপস্থিত থাকবে কয়েকটি পরিচিত নাম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইতালির অনুপস্থিতি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া চিলি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ওয়েলস ও সার্বিয়ার মতো দলও বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি। ফলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক পরিচিত সমর্থকগোষ্ঠী তাদের প্রিয় দলকে মাঠে দেখতে পাবে না।
এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, আটলান্টা, সিয়াটল ও হিউস্টনের মতো শহরগুলো বিশ্বকাপের উত্তাপে সরগরম হয়ে উঠবে। কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেও অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই তারকার জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে আসা এই দুই কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি আবেগ তৈরি করেছে। তাই এবারের বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি দুই মহাতারকার সম্ভাব্য বিদায়ের গল্পও।
শুধু মেসি ও রোনালদো নন, ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তী মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত নিজেদের যুগ শুরু করতে। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, স্পেনের লামিন ইয়ামাল, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জার্মানির জামাল মুসিয়ালা এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। অনেকের মতে, এই বিশ্বকাপই হতে পারে সেই মঞ্চ যেখানে ফুটবলের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে চলে যাবে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে
শিরোপার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগালও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তির ভারসাম্য অনেকটাই বদলে গেছে। তাই কাগজে-কলমে ফেভারিটদের পাশাপাশি কোনো উদীয়মান দল চমক দেখালেও তা অবাক করার মতো কিছু হবে না।
বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবল নয়, এটি আবেগ, স্বপ্ন, স্মৃতি এবং ইতিহাস তৈরির মঞ্চ। আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে উত্তর আমেরিকার মাঠগুলোতে। কোথাও জন্ম নেবে নতুন নায়ক, কোথাও হয়তো শেষবারের মতো বিদায় জানাবেন কোনো কিংবদন্তি। আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামীকাল রাতেই। অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনী বাঁশির, এরপরই শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহারণ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








