স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৭, ৯ জুন ২০২৬

মস্কো বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-রাশিয়ার

মস্কো বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া।

সোমবার (৮ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই নেতা সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিনি তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়া যান।

বৈঠকে লাভরভ ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও বৈশ্বিক বিষয়ে এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করতে তার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে রাশিয়া ড. খলিলুর রহমানের পাশে থাকবে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী বছর জানুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পাবে। এ উপলক্ষে বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।

এ সময় ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করে ড. খলিলুর রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা এসব ক্ষেত্রের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চাই।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বাংলাদেশ-রাশিয়া অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আলোচনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন: রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফরে প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়