নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৫, ১১ জুন ২০২৬

শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ সরকারের, লক্ষ্য জিডিপির ৫ শতাংশ

শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ সরকারের, লক্ষ্য জিডিপির ৫ শতাংশ

ছবি: নিউজবাংলাদেশ (এআই)

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। 

দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ সমপরিমাণ এই বরাদ্দকে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ গত চার বছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির এই হার ২ শতাংশের নিচেই ছিল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা ছিল জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরে এক লাফে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। টাকার অঙ্কে বরাদ্দের এই ‘মেগা জাম্প’ বা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে বিশ্লেষকরা শিক্ষা খাতে সরকারের বিনিয়োগের নতুন ধারার সূচনা হিসেবে অভিহিত করছেন। 

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং পর্যায়ক্রমে সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা সরকারের রয়েছে।

বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা এবং কারিগরি শিক্ষার জন্য ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর অন্যতম সংকটাপন্ন খাত হিসেবে শিক্ষাকে চিহ্নিত করেন। 

আরও পড়ুন: ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট, ঘাটতিতে চাপ

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষা কারিকুলামে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানো।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও খাতসংশ্লিষ্টরা বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও যথাযথ ব্যবহারের ওপরই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। 

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, বরাদ্দ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিপ্রবণ রাষ্ট্রকাঠামোতে বরাদ্দের অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় বা অলস পড়ে না থাকে, সেদিকে সতর্ক নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বরাদ্দ বাড়লেই হবে না, বরং দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করাই হবে প্রকৃত উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

উল্লেখ্য যে, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিগত এক দশকে বাজেটে বরাদ্দের হার ছিল সন্তোষজনক নয়। এমনকি কোনো কোনো অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ আরও কমে আসত। 

তবে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই প্রথম বড় আকারের বাজেট পেশের মাধ্যমেই শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। একই সঙ্গে সরকার ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধা পাচার রোধ করতে বিদেশে অবস্থানরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এবং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ তৈরির মতো সময়োপযোগী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়