নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ১৬ জুন ২০২৬

শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হবে এআই প্রযুক্তি: প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হবে এআই প্রযুক্তি: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, কর্মমুখী এবং বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী ভিশন নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় গৃহীত এই ভিশনের আলোকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার চারটি মূল স্তম্ভে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ‘ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য যে চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষা ধারার মধ্যে সমন্বয় বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’ নিশ্চিত করা। এছাড়া নতুন উপাদান হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের উপযোগী প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষাদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বৈশ্বিক মানদণ্ডের নাগরিক তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭টিরও বেশি ধরনের শিক্ষা ধারা বিদ্যমান। এই বিপুল বৈচিত্র্যের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমতার অভাব রয়েছে। 

তিনি মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করার তাগিদ দেন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়।

শিক্ষকদের শিক্ষার মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না। 

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য যে, দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই সরকারের এই শিক্ষানীতি ও রূপরেখা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মূলত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে ধারণ করে প্রণীত হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়