নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১৬ জুন ২০২৬
আপডেট: ২১:৩৯, ১৬ জুন ২০২৬

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশ গঠনে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রতিশোধের রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে বিদ্বেষ ও প্রতিশোধের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। 

তিনি তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ এবং তাদের মেধা ও শ্রমই হবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার।

আরও পড়ুন: ৭ হাজার ৩ কোটি টাকার ৫ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন একনেকের

সম্প্রতি ঘোষিত বাজেট ও নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর করের হার সামান্য সমন্বয় করা হলেও বাজারের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাজারের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার গৃহীত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ২০১১ সাল থেকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই সেই প্রস্তুতির সফল বাস্তবায়ন হিসেবে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের সুরক্ষা দিচ্ছে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং সাফল্যের কথা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে সরকার এবং গণমাধ্যমকে পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও স্বচ্ছতার সাথে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়