নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:০০, ২১ জুন ২০২৬

কুয়ালালামপুরে লাল গালিচা সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কুয়ালালামপুরে লাল গালিচা সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে রবিবার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। 

বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছান। বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সুসজ্জিত বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী হানানি হারুন। এ সময় শিশু মাইসা নুর আইশা ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি-লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সুসজ্জিত করা হয়েছিল, যা দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের উষ্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। 

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হবে। সেখানে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই সরকারপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

মালয়েশিয়া সফর শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। চীন সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। চীন সফরকালে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি রয়েছে, যেখানে তিস্তা প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামেও অংশগ্রহণ করবেন। মালয়েশিয়া ও চীন এই দুই দেশের সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়