নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৭, ২১ জুন ২০২৬

‘হান্নান মাসউদ, মনে রাখবেন এটি জাতীয় সংসদ, এটি শাহবাগ চত্বর নয়’

‘হান্নান মাসউদ, মনে রাখবেন এটি জাতীয় সংসদ, এটি শাহবাগ চত্বর নয়’

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে এক সংসদ সদস্যের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে রবিবার নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন ভাষণের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বিরোধী দল সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। 

মাসউদ দাবি করেন, বিরোধী দল মদের দাম বা সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করছে এমন বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় দিয়েছেন, যা শুনে তারা হতাশ। এছাড়া, ঋণখেলাপি ও ইসলামী ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যগুলো ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের পরপরই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তথ্যকে ‘ভুল ও অসত্য’ অভিহিত করে তাৎক্ষণিকভাবে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে ভুল করলেও পরে তা সংশোধন করেছেন। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার সাংবিধানিক অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে, এবং সমালোচনা মানেই অসম্মান নয় বলে তিনি যুক্তি দেন।

আরও পড়ুন: সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গ: স্পিকারের বক্তব্যসহ সব বিতর্কিত মন্তব্য এক্সপাঞ্জ

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে বিএনপি মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে কোনো প্রকার অসত্য তথ্য সংসদে গ্রহণযোগ্য নয় এবং মাসউদের বক্তব্যের অসত্য অংশটুকু কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সময় বিএনপি ও জামায়াত সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় আব্দুল হান্নান মাসউদ পুনরায় নিজের স্বপক্ষে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে থামিয়ে দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, যখন খুশি দাঁড়িয়ে কথা বলা সংসদের রীতি নয়। হান্নান মাসউদ, মনে রাখবেন এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি জাতীয় সংসদ।

সবশেষে পরিস্থিতি শান্ত করতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। 

তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের বাইরে দেওয়া বক্তব্য বা রাজনৈতিক বিতর্কগুলো এখানে টেনে এনে উত্তেজনা সৃষ্টি করা সংগত নয়। 

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এটি সত্য কি অসত্য সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে অনেক বিষয় আমাদের জন্য লজ্জাজনক হতে পারে। কারও সম্মানের সঙ্গে যেন লজ্জা না জড়িয়ে থাকে, সে জন্য আমি অনুরোধ করব এই পুরো বিষয়টি এখানেই এড়িয়ে (ইগনোর) যাওয়াই কল্যাণকর হবে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই আহ্বানের পর সংসদীয় কার্যক্রমে আর কোনো আলোচনা না হওয়ায় উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষা এবং সংসদীয় বিতর্কের সীমা নিয়ে এই ঘটনাটি একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা ও সংসদীয় কার্যবিবরণী

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়