স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ৯ জুন ২০২৬

বৃষ্টির হানায় মিরপুরে নিশ্চিত জয়ের অপেক্ষা বাড়ল বাংলাদেশের

বৃষ্টির হানায় মিরপুরে নিশ্চিত জয়ের অপেক্ষা বাড়ল বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তীব্র রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার চূড়ান্ত মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ইতিহাস গড়ার একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। অজিদের নয়টি উইকেট তুলে নিয়ে যখন আর মাত্র এক উইকেটের দূরত্বে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, ঠিক তখনই বেরসিকের মতো হানা দেয় মিরপুরের আকাশ। আকস্মিক ভারী বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে শেষ মুহূর্তে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে বাধ্য হন দুই দলের ক্রিকেটাররা, আর মিরপুরের গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শকের উল্লাস রূপ নেয় দীর্ঘ এক অপেক্ষায়।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) ম্যাচের শুরুতে টস জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জস ইংলিশ। মিরপুরের চেনা উইকেটে শুরুটা দারুণ করলেও ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকের ব্যাটারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের একটি লড়াকু ও চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।

বাংলাদেশের এই বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরে ক্যারিয়ারসেরা এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ক্রিকেট উপহার দিয়ে মোসাদ্দেক ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া টপ অর্ডারে শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ এবং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক তুলে নেন। ইনিংসের একদম শেষ মুহূর্তে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের একটি ঝড়ো ক্যামিও ইনিংস বাংলাদেশকে ২৮৪ রানের বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমীরণ হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: ফিরেই জ্বলে উঠলেন মোসাদ্দেক, ৮৬ রানে ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা

২৮৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের বোলিং তোপের মুখে পড়ে ব্যাকফুটে চলে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত পেস এবং ঘূর্ণি স্পিনের জোড়া আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারী ব্যাটাররা। ম্যাচ যখন বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়, তখন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান। অর্থাৎ, ম্যাচ জিততে হলে অজিদের তখনও প্রয়োজন ছিল ৪৬ বলে আরও ৯৪ রান, অথচ হাতে ছিল মাত্র শেষ উইকেটটি। জয়ের সমীকরণ এবং মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বাংলাদেশ এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

মিরপুরের আকাশে বৃষ্টি থামলে এবং মাঠ খেলার উপযোগী হলে আম্পায়াররা ম্যাচ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে যদি কোনো কারণে আবহাওয়ার উন্নতি না হয় এবং আজ আর খেলা মাঠেড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলেও বাংলাদেশের সমর্থকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। আর ডিএলএস পার স্কোরের চেয়ে বাংলাদেশ রান রেট ও উইকেটের ব্যবধানে বেশ অনেকটা এগিয়ে থাকায়, ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও নিয়মানুযায়ী জয়ী ঘোষিত হবে বাংলাদেশই। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়