News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:১৮, ১৬ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:৪১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

রাবি উপাচার্যসহ শিক্ষকদের শাসালেন আ.লীগ নেতা

রাবি উপাচার্যসহ শিক্ষকদের শাসালেন আ.লীগ নেতা

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর এবার চড়াও হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ডাবলু সরকারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এক শিক্ষককে ধাক্কা ও কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে গত বুধবার রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীও টেবিল চাপড়ে উপাচার্যকে শাসিয়েছিলেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার পূর্ব অনুমতি না নিয়েই উপাচার্যের দপ্তরে আসেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবদুল মুমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকারসহ ১০-১৫জন নেতাকর্মী।

এসময় উপাচার্যের দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

জানা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে কেন বিলম্ব হচ্ছে তা জানতে চান। জবাবে উপাচার্য এসব বিষয়ে কথা বলতে না চাইলে ডাবলু সরকার উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা শুরু করেন। বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে হাত ধরে শান্ত হতে বলেন।

এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ডাবলু সরকারসহ অন্য নেতারা উপাচার্যসহ শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে উপাচার্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কার্যালয় ছেড়ে চলে যান।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, “কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করা, শিবিরের হাতে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ফারুকের বোনের চাকরি স্থায়ী করা, আহত ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমরা উপাচার্যের দপ্তরে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য আমাদের বলেন, ‘বাইরের মানুষের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নিয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না।’ এরপর আমরা দফতর ছেড়ে আসার সময় এক শিক্ষক আমাদের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাত ধরলে তিনি তা ঝাকুনি দিয়ে ছাড়িয়ে দেন। এ সময় কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় কাউকে ধাক্কা মারা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, “উপাচর্যের দফতরে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা করাটা দুঃখজনক।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়