News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১৬ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:৪১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

নববর্ষে যৌন নিপীড়ন, জাবি ছাত্রলীগের ৫ কর্মী বহিষ্কার

নববর্ষে যৌন নিপীড়ন, জাবি ছাত্রলীগের ৫ কর্মী বহিষ্কার


ঢাকা: নববর্ষের দিনে আদিবাসী এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ওই পাঁচ নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শিক্ষার্থী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পহেলা বৈশাখে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিভাগের এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে প্রীতিলতা হলে ফিরছিলেন ওই বিভাগের প্রথম বর্ষের এক আদিবাসী ছাত্রী। ক্যাম্পাসের পরিবহন চত্বর সংলগ্ন চৌরঙ্গীতে আসার পর দুজন ছেলে তাদের দাঁড় করিয়ে কথা বলেন। এসময় পাশেই আরও তিনজন উপস্থিত ছিলেন। ওই পাঁচজন হলো জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত ইমতিয়াজ বিজয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবদুর রহমান ইফতি ও নুরুল কবির, রসায়ন বিভাগের নাফিজ ইমতিয়াজ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের রাকীব হাসান।

এদের মধ্যে নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ও বাকিরা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কেউ একজন ওই ছাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঝোপে ঢুকে পড়েন। তখন তারা দুজনও ব্যাগ ফিরিয়ে আনতে ঝোপের ভেতর ঢুকে পড়েন। ঝোপের মধ্যেই ওই পাঁচজনের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের দুজনকে মারধর এবং গালিগালাজ করেন। ছাত্রলীগের কর্মী নুরুল কবির ছাত্রীর ব্যাগ থেকে পাঁচশ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। নিশাত ইমতিয়াজ ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘অশ্লীল’ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁরা ওই ছাত্রীর হাত ধরে জোর করে বসানোর চেষ্টা করেন। এ পর্যায়ে রাকীব হাসান ছাত্রীর শাড়ি ধরে টান দিলে সে চিৎকার দেয়। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যায়।

পরে ওই ছাত্রী তার হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রীদের এ ঘটনা জানালে গত বুধবার দিনভর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমঝোতার চেষ্টা করেন। ছাত্রীরা রাজি না হওয়ায় বুধবার রাত নয়টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রীতিলতা হলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন ছাত্রী এবং কয়েকজন আদিবাসী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা হলের সামনে আসলে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইলটি এক ছাত্রীর হাতে দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চলে যান।

এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে প্রক্টর তপন কুমার সাহার কাছে এবং পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় ওই ছাত্রী। হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় সেখানে প্রক্টরিয়াল বডির কোনো নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া প্রক্টর ঘটনাটির ‘গুরুত্ব’ দেননি বলেও উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ।

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পিতিবার রাতে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য বাংলা বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আজ রুল দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

নিউজবাংলাদশে.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়