পহেলা বৈশাখ
বেলা বাড়ার সাথে মানুষের ঢল: তীব্র যানজট
ঢাকা: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪২২। বুধবার সকালের দিকে রাজধানীর উৎসব আয়োজনে লোক সমাগম কম থাকলেও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে প্রধান প্রধান উৎসবস্থল রমনার বটমূল, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার সামনে নামে লাখো মানুষের ঢল। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে তৈরি হয় তীব্র যানজট।
উৎসব এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ আজ একাত্ম হয়ে গাইছে-‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে..” ঢাক-ঢোল বাদ্যে পুরো রাজধানী যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। যানজট রুখতে পারেনি তাদের বাঁধভাঙা জোয়ার।
সকাল থেকেই দেখা যায়, রাজধানীর চারদিক থেকে মানুষ ছুটে আসছে রমনা-টিএসসির উদ্দেশে। রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে রাজধানীবাসী পায়ে হেঁটে রমনার বটমূলের দিকে ছুটছে।
সকালে রাজধানীর সড়কগুলো কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর ভয়াবহ যানজটের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে, পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে সাত রাস্তায় ছিল ভয়াবহ যানজট। পহেলা বৈশাখের কারণে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে শাহবাগ যাওয়ার সড়ক পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মগবাজার হয়ে সাত রাস্তা, হাতির ঝিল, মৌচাক এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। পল্টন এলাকায় ছিল যানজট।
তবে নতুন বছরের প্রথম দিনকে বরণ করে নিতে মেয়েরা বৈশাখী শাড়ি, রঙিন চূড়ি, পায়ে আলতা লাগিয়ে আর ছেলেরা পায়জামা-পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ধুতি, কেউবা মাথায় গামছা বেঁধে রাস্তায় নেমে আসে। উৎসব পাগল এ সব মানুষের বিভিন্ন সড়ক পার হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। তবু তাদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়নি।
মগবাজার, মৌচাক এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে এমনিতেই যানজট লেগে থাকে। ভাঙা রাস্তায় শাহবাগের গাড়িগুলো এই পথে চলায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে এ রাস্তাগুলোতে এক কিলোমিটার পার হতেই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। এছাড়া রাজধানীর ধারমন্ডির কিছু রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।
এ সময় ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে থাকা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হয়। তারা জানান, যানজটের কারণে বাচ্চাদের নিয়ে উৎসবস্থলে যেতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বৈশাখের উৎসব প্রাণের উৎসব। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘুরে দেখছি। ভালো লাগছে। পথের কষ্ট আর কষ্ট লাগছে না।
পথচারী এনামূল জানান, “প্রতিবছর সপরিবারে আসি। যানজটের কারণে কষ্ট হয়। ঠিকমতো গাড়ি-ঘোড়া পাই না। কিন্তু সবাই মিলে উপভোগ করি নানা অনুষ্ঠান। তাই এটা মেনে নিই। তবে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হলে এ ধরনের ভোগান্তি আর থাকবে না।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/
নিউজবাংলাদেশ.কম








