অবুঝ সিফাতের আর্তনাদ
‘মা তোমাকে আর কেক খাওয়াতে পারলাম না’
ঢাকা: বুধবার দুপুরে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়েছিল মাত্র সাত বছরের শিশু সিফাত। খেলা শেষ না হতেই মানুষের কাছে খবর পায় তাদের ঘর ভেঙ্গে গেছে। সে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পায় তাদের টিনশেড ঘরটি কাঁদাপানিতে দেবে গেছে।
এই দুঃসংবাদ পাওয়ার আগে মায়ের জন্য এক টুকরা কেক কিনেছিল। কেকটি হাতে নিয়েই দৌড় দেয় বাসার দিকে। চারপাশের মানুষের ভীড় ঠেলে সে খুঁজতে থাকে তার বাবা-মাকে। কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পায় না। অনেক খোঁজাখুজির পর পাওয়া যায় সিফাতের মাকে। কিন্তু ততক্ষণে তার মা আর জীবিত নেই। পাওয়া যায় তার লাশ। মা হারানো শিশুটির কান্নায় তখন উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে। অবুঝ শিশু সিফাত মায়ের লাশ জড়িয়ে বলতে থাকে ‘মা তোমাকে আর কেক খাওয়াতে পারলাম না।’ তার হাতে তখনো কেকটি ধরা ছিল।
পরে রামপুরা থানার এসআই জিয়ারত হোসেন শিশুটির মা কল্পনা বেগমের লাশ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রওনা হলে সে মায়ের লাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে-ও মায়ের মরদেহের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে চলে আসে।
হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যে উদ্ধারকারী এবং উপস্থিত অনেকেই বারবার চোখ মুছেন। শিশুটির জন্য সবাই আফসোস করতে থাকেন। কিন্তু তখনো কেউ জানে না এরপর শিশুটির জন্য আরো কতোটা নির্মম দৃশ্য অপেক্ষা করছে!
একই ভ্যানে মায়ের লাশের সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর সেখানে জরুরি বিভাগে সে দেখতে পায় তার বাবার (নিজাম উদ্দিন) লাশ। একসাথে মা-বাবা দুজনের লাশ ধরে শিশুটির চিৎকারে হাসপাতালে তৈরি হয় নিশ্ছিদ্র শোকের ভয়াবহতা। চিৎকার করে সে বলতে থাকে “মা-বাবা তোমরা দুজনেই চলে গেলে। এখন আমাকে কে খাওয়াবে।” এসময় চারপাশে থাকা চিকিৎসক-নার্স-পুলিশ আর হতাহতদের স্বজনরা শোক আর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
রাত দশটায় আমাদের ঢামেক প্রতিনিধি আজিজুল হাকিম জানান, তখনো সিফাতের হাতে ধরা ছিল মায়ের জন্য কেনা কেকটি। স্বজনদের সঙ্গে সে অপেক্ষায় আছে মা-বাবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার।
ভাগ্যাহত সিফাতুল ইসলাম সিফাতের বাবা নিহত নিজাম উদ্দিন এবং মা কল্পনা বেগমসহ রামপুরা চৌধুরী পাড়ার ঝিলপাড় টিনশেড দোতলা বাড়িতে থাকতো। বুধবার সন্ধ্যায় এই দোতলা টিনশেড বাড়িটি দেবে যায়। এতে নিজামের পরিবারের ৪জনসহ ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে/একে
নিউজবাংলাদেশ.কম








