News Bangladesh

জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:১৪, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাবার কবরের পাশেই শেষ ঠিকানা চেয়েছিলেন হাদি

বাবার কবরের পাশেই শেষ ঠিকানা চেয়েছিলেন হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায়। হাদিশূন্য বসতভিটায় ভিড় করছেন চেনা-অচেনা অসংখ্য মানুষ। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গ্রামবাসী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাদির ইচ্ছা ছিল তাকে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিহত হাদির ভগ্নপতি আমীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘হাদির ইচ্ছা ছিল বাবার পাশে শায়িত হওয়ার।’

নলছিটি পৌরসভার খাসমহল এলাকার টিনশেডের একটি সাধারণ ঘরেই ১৯৯৩ সালে জন্ম নেন সৈয়দ শরিফ ওসমান হাদি। বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমা হাদির ঘরে ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাদির বেড়ে ওঠা গ্রামেই। আজ সেই ঘর যেন কেবল স্মৃতির ফ্রেম- ঘাতকের গুলিতে চিরবিদায় নেওয়ায় শূন্যতার কালো ছায়া নেমে এসেছে তার জন্মভূমিতে।

এলাকাবাসী জানান, শৈশব থেকেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন হাদি। নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। স্বজনদের কাছে যেমন, তেমনি গ্রামবাসীর কাছেও হাদি ছিলেন শুধু একটি নাম নয়—চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সংগ্রাম ও প্রত্যয়ের প্রতীক। তাই তার হত্যার ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। কেউ অঝোরে কাঁদছেন, কেউবা গুমরে গুমরে শোক প্রকাশ করছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির বাড়িতে ভিড় করেন পরিচিত-অপরিচিত বহু মানুষ। বাড়িতে থাকা হাদির বোন ও তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান আগতরা। এ সময় কেউ স্মৃতিচারণ করেন, আবার কারও কণ্ঠে উঠে আসে হাদি হত্যার বিচারের দাবি।

আরও পড়ুন: হাদির হত্যাকারীদের হাতে দেশ তুলে না দেওয়ার আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে শরিফ ওসমান হাদিকে গুরুতর আহত করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়