News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের বাজেট ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, মজুরি, কৃষি উৎপাদন ও বৈদেশিক খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি, মজুরি, কৃষি উৎপাদন, চলতি হিসাব, প্রবাসী আয়, আমদানি ও ঋণপত্রের উন্নতি নিয়ে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি, প্রাপ্ত ফলাফল ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, চলতি হিসাব, প্রবাসী আয়, আর্থিক ও বৈদেশিক খাত, আমদানি ও ঋণপত্র।

মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধি

বৈঠকে জানানো হয়, ১২ মাসের গড় হিসেবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের জুনের পর প্রথমবারের মতো নভেম্বর ২০২৫-এ ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ ২০২৩-এ মূল্যস্ফীতি ৯.৩৩ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে জুন ২০২৫-এ এটি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসে এবং নভেম্বর ২০২৫-এ আরও কমে ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে আশা করা যাচ্ছে জুন ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাবে।

বিগত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় কমে গিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরের সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পার্থক্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধি (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) যথাক্রমে ৮.২৯ শতাংশ ও ৮.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল যথাক্রমে ৯.০২ ও ৭.০৪ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরে প্রকৃত আয়ের পুনরুদ্ধারের ধারা ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হচ্ছে।

কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা

কৃষি খাতে যথাযথ প্রণোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে গত অর্থবছরে বোরো মৌসুমে ভালো ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় আমন ধানেরও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন ১৬০.৯৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন সম্পন্ন হলে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন ৭.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়গুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি খাতের স্থিতিশীলতার প্রমাণ হিসেবে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: ৫ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা

আর্থিক ও বৈদেশিক খাত

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগস্ট ২০২৪-এ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বৈঠকে বলা হয়, মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি এবং সুদের হারের সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই ধারা আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি হিসাব ও প্রবাসী আয়

বিগত ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলতি হিসাব ঋণাত্মক ছিল। বিশেষ করে ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি যথাক্রমে ১৮.৭, ১১.৬ ও ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও অর্থ পাচার রোধের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এটি কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে চলতি হিসাব ঘাটতি ৭৪৯ মিলিয়ন ডলারে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে পাঁচ লাখ কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ছিল। একই সময়ে প্রবাসী আয় ১৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বেশি।

আমদানি ও ঋণপত্র খোলা

অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনশীল করতে আমদানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে আমদানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ১.২ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.১ শতাংশে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-অক্টোবর সময়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৩২.৮ শতাংশ ছিল, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে ২৭.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিল্পজাত কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধি ১০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০.৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের ফলে দেশের ইমেজে যে নিম্নগতি দেখা দিয়েছিল তা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি হ্রাস, মজুরি ও কৃষি উৎপাদনের উন্নতি, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল সূচক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া ঋণপত্র খোলা এবং ট্রেড ফিনান্সিং সহজতর হওয়া দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেছেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক চলকের ভারসাম্য পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের অগ্রগতির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়