১৬ বছর পর পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ
ঢাকা: এক পশলা রোমাঞ্চের পর প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে এক উইকেটে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ। ১৬ বছর পর বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটির বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল।
বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এর জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বিসিবি একাদশ ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে। ইনিংসের ৭ বল বাকি থাকতে। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরির পর লোয়ার অর্ডারে সোহাগ গাজী ও মোহাম্মদ শহিদের দৃঢ়তায় জয় পায় মুমিনুলের দল।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর আর কোনো ধরনের ক্রিকেটেই দলটিকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও প্রস্তুতি ম্যাচ মিলেই। ১৬ বছরের সেই জয় বন্ধ্যাত্ব ঘোচাল মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বিসিবি একাদশ। তবে অবিস্মরণীয় জয়টা একেবারে নিঝঞ্জাট হয়নি। কিন্তু ব্যাট হাতে সাব্বির রহমানের ঝড়ো সেঞ্চুরির পর সোহাগ গাজী ও মোহাম্মদ শহিদদের সাহসে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আজহার আলির পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৫ ওভারে ৬৬ রান তোলে সফরকারী দলটি। দলটির তৃতীয় উইকেটের পতন ১৩০ রানে, হারিস সোহেলের বিদায়ে। কিন্তু উইকেটের এক প্রান্ত আগলে দলকে ঠিকই এগিয়ে নিচ্ছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। শেষে ৮৫ রান করে আউট হন পাক ওপেনার। এরপর পাকিস্তানের ইনিংসের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে যায়। ৩ উইকটে ১৪৫ থেকে নিমিষেই ৮ উইকেটে ২০৩ স্কোর হয় তাদের।
খারাপ এই পরিস্থিতিটা সামলে নেন ফাওয়াদ আলম। ৯ চারে ৫৮ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন পাকিস্তানের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তাতে করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান করে সফরকারীরা। বাংলাদেশের শুভাগত হোম ৭ ওভার বল করে ৩৯ রানে তিনটি উইকেট শিকার করেন।
২৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে ৫.১ ওভারে দলীয় ৯ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারায় বিসিবি একাদশ। বিশ্বকাপের পর প্রস্তুতি ম্যাচেও আস্থা দেখাতে ব্যর্থ তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত ৯ রান করে রাহাত আলির শিকার হন তিনি। আরেক ওপেনার রনি তালুকদার রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। ওয়ান ডাউনে নামা লিটন দাসও থিতু হতে পারেননি। ২২ রান করে আউট হন তিনি। এরপর বিসিবি একাদশের ইনিংসে আসল টনিকটা সরবরাহ করেন সাব্বির রহমান। ৯৯ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ৮টি ছয়ের সাথে ৭টি চারের মার ছিল।
মুমিনুল হক ১২, ইমরুল কায়েস ৩৬, শুভাগত হোম ৫, মুক্তার আলি ১ রানে আউট হলে দ্রুত ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে যায়। জয় দেখতে দেখতে হঠাৎ হারের শঙ্কা দেখা দেয় বিসিবি একাদশের। এরপর সোহাগ গাজী ও মোহাম্মদ শহীদের সাহসী ব্যাটিংয়ে ৪৮.৫ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে স্বাগতিকরা। গাজী ২৮ বলে ৩৬ রান করেন। আর আর মোহাম্মদ শহীদ ১২ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম (৬)। পাকিস্তানের জুনায়েদ খান ৪টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২৬৮/৯ (হাফিজ ৮৫, ফাওয়াদ ৬৭, শুভাগত ৩/৩৯)
বিসিবি একাদশ: ২৭০/৯ (সাব্বির ১২৩, ইমরুল ৩৬, জুনায়েদ ৩/২৩)
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/এফকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








