আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, এনসিপি নেতারাদের প্রতিক্রিয়া
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা।
শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান তারা।
এর আগে শনিবার (১০ মে) রাত ৮টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গসংগঠনকে বিচারের আওতায় আনার পথ খুলে দিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন। সরকারকেও সাধুবাদ। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চাই। তবে জুলাই ঘোষণাপত্র ও বিচার প্রশ্নে আমাদের সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। সারাদেশের ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি লেখেন, নির্বাচন কমিশনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নিবন্ধন দ্রুত সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ লিখেছেন, ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। অনেকেই এ সিদ্ধান্তে অখুশি, রাস্তা ছাড়া যাবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
রাজনৈতিক সংকটে কঠিন পদক্ষেপ: নিষিদ্ধ হলো আওয়ামী লীগ
শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে “জুলাই ঘোষণাপত্র” চূড়ান্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নতুন সংবিধান প্রণয়নের রূপরেখা, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন, এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারপন্থী শক্তির সমন্বয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রস্তাবনা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ যতটা প্রতীকী, তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে — রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কাঠামো গঠন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








