News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ১০:৪৫, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানির রেকর্ড মজুতের দাবির মুখেও পাম্পে হাহাকার, বিপর্যস্ত জনজীবন

জ্বালানির রেকর্ড মজুতের দাবির মুখেও পাম্পে হাহাকার, বিপর্যস্ত জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রলপাম্পগুলোতে তীব্র সংকট আকারে প্রতিফলিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। 

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলোতে এখন তেলের জন্য হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ গ্রাহক ও চালকদের মধ্যে। পাম্পের দীর্ঘ সারি এখন মূল সড়ক ছাড়িয়ে অলিগলিতে গিয়ে ঠেকেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহ করতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোর হওয়ার আগেই পাম্পের সামনে যানবাহনের লাইন শুরু হয়, যা দিন গড়িয়ে রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেক চালক। কেউ কেউ সীমিত পরিমাণ তেল নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

জ্বালানির এই সংকট রাজধানীর প্রায় সব পাম্পেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাজার হাজার যানবাহন সারিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কে চাপ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং সীমিত সরবরাহের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও কোথাও সিরিয়াল ভাঙা, অল্প পরিমাণ তেল সংগ্রহ বা অগ্রাধিকার নিয়ে বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

একাধিক পাম্পে হঠাৎ করে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে লাইনে থাকা শত শত যানবাহন নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়ে যাচ্ছে। ডিপো থেকে জ্বালানি কখন আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় পাম্প মালিক ও গ্রাহক উভয়ই উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। যদিও সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে সংকট অব্যাহত থাকায় অনেকেই এটিকে কৃত্রিম সংকট হিসেবে দেখছেন।

সরেজমিনে রাজধানীর আসাদগেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন ও পরীবাগ এলাকার আরেকটি পাম্পে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সড়ক ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও এই লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে আবাসিক এলাকার গলি ও প্রধান সড়কেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে দ্বিমুখী ভোগান্তিতে নগরবাসী

আসাদগেট এলাকায় পাম্পের সামনে যানবাহনের সারি বিজয় সরণি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা যায়। সেখানে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের চাপও রয়েছে। পরীবাগ এলাকায় লাইন হাতিরপুল, বাংলামোটরসহ আশপাশের গলিপথে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকা কার্যত যানজটের কবলে পড়ে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই ভোরে লাইনে দাঁড়ান এবং দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকের চাপ একত্রে সড়ক ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে তুলছে।

একজন রাইড শেয়ার চালক জানান, তিনি ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় আয়-রোজগারেও বড় প্রভাব পড়ছে।

একজন ফুড ডেলিভারি কর্মী জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কাজের সময় কমে যাচ্ছে এবং আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চালক জানান, টানা কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাননি, ফলে অফিস কার্যক্রমেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একাধিক পাম্প কর্মী জানান, তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছেন, যার কারণে সীমিত পরিমাণে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে, তবে চাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে সংকট কতদিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

এদিকে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও সংকট তৈরি হওয়াকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশে ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, জেট ফুয়েলের মজুতও ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়