চীনা মুদ্রায় ইরানি তেল কিনছে ভারত
ফাইল ছবি
বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির মধ্যেই দীর্ঘ ৯ বছর পর ইরান থেকে পুনরায় জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করেছে ভারত। তবে এই লেনদেনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলার এড়িয়ে চীনের মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ তেলের দাম পরিশোধ করছে নয়াদিল্লি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামের লাগাম টেনে ধরতে ওয়াশিংটন গত মাসে ইরান ও রাশিয়ার ওপর থেকে সমুদ্রপথে তেল কেনাবেচার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এই বিরল সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ (আইওসি) প্রায় এক দশকের বিরতি ভেঙে ইরান থেকে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ‘জয়া’ নামক একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে আসা এই চালানের বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার। কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই নয়, ভারতের বেসরকারি জ্বালানি জায়ান্ট ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’–এর জন্যও ইরানি তেলবাহী চারটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামক একটি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল খালাস সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সব নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের নতুন দর কার্যকর
এই বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাংকের মাধ্যমে।
সূত্রমতে, ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে সরাসরি চীনা মুদ্রায় ইরানি বিক্রেতাদের পাওনা পরিশোধ করছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের সাথে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে ইরান থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহ হারিয়েছিলেন অনেক বৈশ্বিক ক্রেতা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ানের ব্যবহার বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আইসিআইসিআই ব্যাংক, রিলায়েন্স বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে ভারত ও ইরানের মধ্যকার এই বিশেষ বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ক্ষীণ। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ও বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে যে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। সেই হিসেবে নিষেধাজ্ঞার এই সাময়িক শিথিলতার সময়সীমা আজ রবিবারই শেষ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ডলার ব্যতিরেকে ইউয়ানে এই লেনদেন অব্যাহত রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়ার অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভারত কৌশলগত অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত জ্বালানি সংকটে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








