ডলার ও তেলের দাপটে ম্লান স্বর্ণের বাজার
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চেয়ে মার্কিন ডলার এবং ট্রেজারি বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার লেনদেনের শুরুতেই স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭৯৩.৯৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস (জুন ডেলিভারি) ১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৮১৩.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও নিম্নমুখী; আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৯.৪৯ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ১.৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম ১ শতাংশ কমে যথাক্রমে ২,০৭৬.৯২ ডলার ও ১,৫৪৩.৭৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
টেস্টিলাইভ-এর গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে পুনরায় ‘ওয়ার ট্রেড’ বা যুদ্ধকালীন বাণিজ্য পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর তেহরান পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। এর ফলে দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আরও পড়ুন: আবারও বাড়লো সোনার দাম
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেবে না। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে উসকে দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে এমন পূর্বাভাসে মার্কিন ডলার সূচক এবং ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি ইল্ড উভয়ই শক্তিশালী হয়েছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা ও দাম কমে যায়। যদিও স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ মনে করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে ডলার বা বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
বিশ্ববাজারের এই দরপতনের প্রভাব দ্রুতই বাংলাদেশের বাজারে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে যে কোনো সময় দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হতে পারে। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সবশেষ দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশ্ববাজারে বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








