অভিনয়ের প্রয়োজনে কুরআন শেখেন ইয়ামি গৌতম
‘হক’ সিনেমার একটি দৃশ্যে ইয়ামি গৌতম। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডে বহুমুখী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম আবারও আলোচনায় এসেছেন তার ভিন্নধর্মী কাজের জন্য। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘হক’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন ইয়ামি। ১৯৭০-এর দশকের ভারতের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে তিনি শাজিয়া বানো চরিত্রে অভিনয় করেন।
সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা জানান, চরিত্রটি বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি কোনো শর্টকাট নেননি। শাজিয়া বানোর চরিত্রে নিজেকে প্রস্তুত করতে তাকে কুরআন শেখার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস সময় নিয়ে ইয়ামি ভাষা ও উচ্চারণ আয়ত্ত করার চেষ্টা করেন। ছবিতে কুরআনের আয়াত সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং ‘ইকরা’ শব্দ দিয়ে সিনেমাটি শেষ করা হয়েছে।
সুপর্ণ ভার্মা বলেন, ‘হক’ সিনেমার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা। তার মতে, বর্তমান সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যান্ড্রু টেট-এর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে বেড়ে ওঠার কারণে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেছেন। প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ইসলামি আইন নিয়ে কাজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চলচ্চিত্রটিতে শরিয়াহ আইন ও তিন তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, তিন তালাক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘মোহর’ যে নারীদের জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা এ বিষয়টিও ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বর্ণ পামের জন্য লড়তে কান যাচ্ছে ‘পেপার টাইগার’
‘হক’ চলচ্চিত্রে একজন নারীর ভরণপোষণ, সম্মান ও আইনি লড়াইয়ের গল্প উঠে এসেছে। স্বামীর পরিত্যাগ ও তালাকের পর তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক বিতর্কে রূপ নেয় সেটিই এ সিনেমার মূল উপজীব্য।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








