News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪০, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে বড় সংস্কার, সংসদে দুই সংশোধনী বিল পাস

পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে বড় সংস্কার, সংসদে দুই সংশোধনী বিল পাস

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

দেশের পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করলে উপস্থিত সদস্যদের অধিকাংশের ‘হ্যাঁ’ ভোটে তা গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। 

‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচন, ক্ষমতা কাঠামো ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেল। একই সঙ্গে এই সংশোধনীগুলোকে পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই সংশোধন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একইভাবে বীমা খাতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য আইন সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয় এবং অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন পায়।

আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে সরকার

আলোচনার সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বিশেষ করে পুঁজিবাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রুমিন ফারহানা-সহ বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বিল দুটি জনমত যাচাই ও সংসদীয় বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন, তবে সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এতে বিল পাস প্রক্রিয়া ঘিরে সংসদে মতভিন্নতা ও বিতর্কও দেখা দেয়।

পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন, ১৯৯৩-এ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে পূর্ববর্তী ৬৫ বছর বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আইন, ২০১০-এ বিদ্যমান ৬৭ বছর বয়সসীমা সংক্রান্ত অযোগ্যতার বিধানও বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে উভয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগে বয়স কোনো বাধা হিসেবে থাকবে না।

আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য সংবলিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার ও বীমা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। বিদ্যমান কাঠামোকে আরও গতিশীল ও বাস্তবসম্মত করার অংশ হিসেবেই বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংশোধনের ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে যোগ্য জনবল নিয়োগে নমনীয়তা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে সংসদে মত দেওয়া হয়।

দুটি বিলই পাস হওয়ায় এখন এগুলো রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর আইনে পরিণত হবে। পুঁজিবাজার ও বীমা খাতের দীর্ঘদিনের সংস্কার দাবির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন দিক নির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়