ছাতা এলো কেমন করে
ছবি: ইন্টারনেট
গ্রিস্মের কড়া রোদ আর বর্ষায় বৃষ্টিতে ছাতার কোনো বিকল্প নেই। শিশু থেকে বয়স্ক সবার প্রয়োজনে ছাতা আমাদের সুরক্ষা দেয় রোদ আর বৃষ্টি থেকে।
ইংরেজি নাম খেয়াল করলেও বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়, ইংরেজি আমব্রেলা শব্দটি লাতিন ‘আমব্রা’ থেকে নেওয়া, যার বাংলা-ছায়া। অর্থাৎ যে বস্তুটি আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকে।
ঐতিহাসিকেরা বলছেন, ছাতা প্রায় চার হাজার বছর আগে উদ্ভাবিত হয়। সে সময় প্রাচীন মিসর, আসিরিয়া, গ্রিস ও চীনের মানুষ ছাতা ব্যবহার করত রোদের সময়। তবে বৃষ্টির জন্য ছাতা ব্যবহার শুরু হয়েছিল চীনে।
তবে ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্স স্টিলের হালকা রড ও ছাতা তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন, যা আধুনিক ছাতার আধুনিক রূপ বলে ধরা হয়।
মোমের প্রলেপ মাখানো কাগজ ব্যবহার করে প্রথম জলনিরোধক ছাতা তৈরি করে চীনের মানুষ। তখন ছাতার হাতল তৈরি হতো কাঠ অথবা তিমির চোয়ালের হাড় আর ওপরের অংশে ব্যবহার হতো পশুর চামড়া কিংবা পানিনিরোধক মোটা কাপড়।
আরও পড়ুন: লোকজ খাদ্য থেকে বিশ্বস্বীকৃত পুষ্টির উৎস ‘পান্তাভাত’
এরপর ১৬ শতাব্দীতে পশ্চিমা দুনিয়ায় ছাতা পরিচিতি পায়, বিশেষ করে উত্তর ইউরোপে। প্রাচীনকাল থেকে ১৭ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় অবধি ছাতা শুধু নারীদের ব্যবহার্য পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পুরুষ মানুষও যে ছাতা ব্যবহার করতে পারেন, তা ইংরেজদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন ইরানি পর্যটক ও লেখক জোনাস হ্যানওয়ে।
সে সময় ইংরেজরা ছাতাকে ‘হ্যানওয়ে’ নামেও চিনত! অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ছাতার আকার ছিল অতিকায়। ১৮৩০ সালে ইংল্যান্ডের ‘জেমস স্মিথ অ্যান্ড সন্স’ প্রথম ছাতা বিক্রির দোকান। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্স নামের এক ইংরেজ ইস্পাত ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো ছাতা তৈরির নকশা করেন। এরপরই উদ্ভাবিত হয় ফোল্ডিং ছাতা, দিনে দিনে ছাতার আকার ছোট হতে থাকে।ৃ
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








