৩৬ টাকায় ধান ও ৪৯ টাকায় চাল কিনবে সরকার
ফাইল ছবি
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এবং এতে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীসহ কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য অধিদফতরের সভা কক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী ৩ মে থেকে দেশজুড়ে এই সংগ্রহ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
সরকারের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতব চাল ৪৮ টাকা দরে কেনা হবে। অন্যদিকে, গমের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও তথ্যের ভিন্নতায় গমের দাম কোথাও কোথাও ৪০ টাকা আলোচিত হলেও ৩৬ টাকার বিষয়টিই মূল লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে উঠে এসেছে। বিগত বছরের সংগ্রহ মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এবারের দাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: বাসভাড়া না বাড়াতে কঠোর নির্দেশ মালিক সমিতির
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংগ্রহের সময়সীমা ঘোষণা করে বলেন, ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। তবে চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হবে কিছুটা পরে, অর্থাৎ ১৫ মে থেকে যা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এবার মোট ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পান এবং বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্যই সময়মতো এই বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের বর্তমান খাদ্য মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে বোরো সংগ্রহ অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃষকদের হয়রানি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে সভায়।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান, সরকার নির্ধারিত মান বজায় রেখে গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করতে হবে। এবারও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বোরো মৌসুমের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সংগ্রহ অভিযান সফল হলে চালের বাজার দরে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করছে সরকার।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








