News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম

জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় পণ্যের প্রসার ও ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলার নির্ধারিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটজাত স্কুল ব্যাগ ও ইউনিফর্ম বিতরণ করা হবে। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তিন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।

উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের শুরুর মাসেই অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এসব পরিবেশবান্ধব শিক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতি উপজেলা থেকে দুটি করে স্কুল প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন: স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা বাড়ালে উগ্রবাদের স্থান থাকবে না: ববি হাজ্জাজ

বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মূল দর্শন হলো ‘সামাজিক ন্যায্যতা’ ও ‘সমতা’ নিশ্চিত করা। একই ধরনের পোশাক ও ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের মনে ছোটবেলা থেকেই ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ দূর করার মানসিকতা তৈরি হবে। এটি কেবল একটি বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং একটি ন্যায্য সমাজ গঠনের পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগের বিকল্প হিসেবে সোনালী আঁশ পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

বস্ত্র ও পাট এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন মন্ত্রণালয়ের বাজেট সমন্বয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ হবে। পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে দেশীয় শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে দেশীয় পণ্যের বাজার শক্তিশালী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ সচেতনতায় ইতিবাচক সিগনাল দেবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়