News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ২২ এপ্রিল ২০২৬

চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো কার্যকর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। 

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ করছে এবং চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটন ‘অনেক বড় ব্যবধানে এগিয়ে’ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটন থেকে কড়া বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; এমনকি পূর্বের বৈঠকের ভেন্যু সেরেনা হোটেল থেকে সাধারণ অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মঙ্গলবার পর্যন্ত ওয়াশিংটন ত্যাগ করেননি। 

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আলোচনায় বসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাদের নেই। মূলত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান।

আরও পড়ুন: এবার পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের শ্রম সচিব

এদিকে সমুদ্রসীমার উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭টি জাহাজকে হয় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো ইরানি বন্দরে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গত রবিবার প্রথমবারের মতো একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। 

সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সতর্কবার্তা দেওয়ার পর মার্কিন সেনারা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে জাহাজটিতে অবতরণ করছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও গত দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ বজায় রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়েছে গত শনিবারের একটি গোলাগুলির ঘটনা। হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার পর সেখানে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। 

ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওই জাহাজে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না সরালে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। এমন পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানের মধ্যেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হবে। সম্ভাব্য এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক ধোঁয়াশা কাটছে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়