দক্ষিণ আফ্রিকায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের প্রবাসী ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের শামীম (বারা শামীম) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারাখওয়ানা/বারাকওয়ানে এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত শামীম চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনু সারেং বাড়ির মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০০৭ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যান এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরে আবারও সেখানে গিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল এবং তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় প্রবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে ফোর্ডসবার্গ এলাকা থেকে বাজার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর পর তিনি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কিছু সূত্রে এটিকে ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, অন্য একটি সূত্রে বলা হয় হামলাকারীরা দোকানের কনটেইনার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও মালামাল লুটের চেষ্টা করছিল। বাধা দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পেছনে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ডিজেল পাচারকালে বাংলাদেশি যুবকসহ আটক ২
নিহতের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন আগে একটি বড় দোকান বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে পরে উত্তেজনা চলছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তার বাবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে দোকানের সামনে কথা বলছিলেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। একই সময় হামলাকারীরা অতর্কিতে এসে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল তানসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠনগুলোও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা নিহতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
ঘটনার পর জোহানেসবার্গে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শামীমের পরিবার দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








