মালয়েশিয়ায় ৫ নারীকে হেনস্তার দায়ে এক বাংলাদেশিকে বেত্রাঘাত ও জেল
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন এলআরটি ও এমআরটি স্টেশনে পাঁচ নারীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক মোহাম্মদ রমজান আলীর (৪১) সাজা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছেন দেশটির উচ্চ আদালত।
এক রিভিউ শুনানিতে পূর্বের দেওয়া ৬ মাসের কারাদণ্ড বাতিল করে তাকে ১৮ মাস বা দেড় বছরের কারাদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেন কুয়ালালামপুর হাই কোর্ট। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে একটি বেত্রাঘাত এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানা বহাল রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) কুয়ালালামপুর হাই কোর্টে এক রিভিউ শুনানি শেষে বিচারপতি আসলাম জাইনুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রমজান আলী মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে গত ৬ মে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার ১০০ রিঙ্গিত জরিমানার শাস্তি দিয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই সাজাকে অপর্যাপ্ত দাবি করে উচ্চ আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে হাই কোর্ট শাস্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন রায়ে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ ১৮ মাস নির্ধারণ করা হয় এবং তা গত ২৭ এপ্রিল, অর্থাৎ গ্রেফতারের দিন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন এমআরটি ও এলআরটি স্টেশন এবং এসকেলেটরে চারজন মালয়েশীয় নারী ও এক জার্মান পর্যটককে লক্ষ্য করে একাধিকবার যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন রমজান আলী। ভুক্তভোগী নারীদের বয়স ছিল ২১ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ডিজেল পাচারকালে বাংলাদেশি যুবকসহ আটক ২
অভিযোগে বলা হয়, তিনি শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে নারীদের উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগীরা পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
গত ২৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। প্রাথমিক শুনানিতে কয়েকটি অভিযোগে তাকে তিন সপ্তাহ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সাজা এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালত মনে করেন, গণপরিবহনকেন্দ্রিক জনবহুল স্থানে ধারাবাহিকভাবে নারীদের হেনস্তার মতো অপরাধ সমাজে উদ্বেগজনক বার্তা দেয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন জরুরি।
রিভিউ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফরিদা নুরদিনী বাহরুম আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যৌন হেনস্তা একটি গুরুতর অপরাধ এবং জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রেদজুয়ান ইব্রাহিম আদালতের কাছে সাজা না বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, রমজান আলীর পরিবার তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে চায়। শুনানির সময় তার ভাইও আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
রায়ে বিচারপতি বলেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বিবেচনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া না হলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








