ওমানে বিয়ের কেনাকাটা শেষেই লাশ হলেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের আল মুলাদ্দা এলাকায় পার্কিং করা গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একই পরিবারের চার আপন ভাইয়ের মরদেহ গাড়ি থেকে উদ্ধার করে ওমান পুলিশ। বিয়ের কেনাকাটা শেষে দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিন আগে তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সময় ১২ মে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বুধবার সকালে, যখন স্থানীয়রা পার্কিং অবস্থায় থাকা একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ওমান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. শাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. শহিদুল ইসলাম। তারা একই পরিবারের চার সহোদর এবং আবদুল মজিদের সন্তান। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের খুব শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল এবং পরিবারে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। বিশেষ করে এক ভাইয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হন বলে জানা যায়। সেই আনন্দঘন প্রস্তুতির দিনই তাদের জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটে।
আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও ২ বাংলাদেশি নিহত
প্রাথমিক তদন্ত ও একাধিক সূত্রের বরাতে ওমান পুলিশের ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি বন্ধ স্থানে চালু অবস্থায় থাকার কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস বা গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে এসি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনো বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি এবং ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর মাস্কাটে স্থানান্তরের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মৃত্যুর খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়া এলাকায় নেমে আসে শোকের অন্ধকার। পরিবারে কান্না, প্রতিবেশীদের ভিড় এবং পুরো গ্রামে নীরব বিষাদের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন বিবাহিত ছিলেন এবং তার সন্তান রয়েছে। অন্য দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার পর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, যা পরিবারে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু প্রবাসে উপার্জনের স্বপ্ন, দেশে ফেরার প্রস্তুতি এবং পারিবারিক আনন্দের মুহূর্ত সবই মুহূর্তে রূপ নেয় এক ভয়াবহ শোকগাঁথায়। ওমান বাংলাদেশ দূতাবাসও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








