News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জাপানে ৭.৪ ভূমিকম্পের পর আঘাত হানল সুনামি

জাপানে ৭.৪ ভূমিকম্পের পর আঘাত হানল সুনামি

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির ঢেউ আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা ও প্রভাব স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে সানকিরু উপকূলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে, কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী টোকিও’র বড় বড় ভবনগুলো পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। 

ভয়াবহ এই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে সুনামির ঢেউ। ভূমিকম্পের ঠিক ৪০ মিনিট পর বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে ইওয়াতের কুজি বন্দরে প্রথম সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। 

ইতোমধ্যে ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার (৩১.৫ ইঞ্চি) উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)। এছাড়া হোক্কাইডোর উরাকাওয়া এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরেও প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ পরিলক্ষিত হয়েছে।

উচ্চ সতর্কবার্তা ও গণ-উচ্ছেদ আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, পরবর্তী ঢেউগুলো প্রথমটির চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও উচ্চতাসম্পন্ন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হোক্কাইডো, আওমোরি, ইওয়াতে, মিয়াগি এবং ফুকুশিমা প্রিফেকচারে ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু ভূমি বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। 

আরও পড়ুন: জাপানে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: উপকূলজুড়ে সুনামির আশঙ্কা

জেএমএ-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন নিরাপদ স্থান ত্যাগ না করেন।

সরকারি তৎপরতা ও পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ে জরুরি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ফুকুশিমা বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা ফাটল দেখা দিয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর ফুটেজে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি দেখা না গেলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে অনুসন্ধান চলছে।

আফটারশক ও অতীত আতঙ্ক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপানে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে আজকের এই ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প ২০১১ সালের সেই প্রলয়ঙ্কারী ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। জেএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ওই এলাকায় ৫ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পন আঘাত হানতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়