মার্কিন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেই ইরানের হামলা
ছবি: সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। বুধবার সকালে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই হামলা চালায় বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে ইরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, বরং হরমুজ প্রণালীতে তাদের ‘আইনসম্মত নিয়ন্ত্রণ’ বলবৎ করার দাবিতে অনড় রয়েছে।
ইউকেএমটিও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে কোনো প্রকার সতর্ক সংকেত ছাড়াই একটি ইরানি গানবোট কন্টেইনার জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। মূলত গত সপ্তাহে ভারত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক একটি ইরানি জাহাজ জব্দ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
এদিকে ওয়াশিংটনে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানি নেতৃত্বকে ‘মারাত্মকভাবে বিভক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির রহস্যময় আড়ালে থাকা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে তেহরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ থাকায় শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও ইরানিদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সাড়া না মেলায় মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর আপাতত ঝুলে রয়েছে।
সংকট সমাধানে তেহরান সরাসরি শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দাবি সাফ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হওয়ার আগে প্রণালী উন্মুক্ত করা হবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রণালী বন্ধ থাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি অজনপ্রিয় সংঘাত পুনরুজ্জীবিত করতে না চাইলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সমাধান না এলে ওয়াশিংটন পুনরায় সামরিক পথে হাঁটতে প্রস্তুত। এই মুহূর্তে দুই পক্ষই যেমন আলোচনার সুযোগ জিইয়ে রেখেছে, তেমনি রণক্ষেত্রে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে একে অপরকে চাপে রাখার কৌশলও অব্যাহত রেখেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








