লক্ষ্যমাত্রার পথে জাতিসংঘের ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত
কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে জাতিসংঘ পরিচালিত বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচি ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা এখন পূরণের পথে রয়েছে। মূলত মহামারিকালীন স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয় সামাল দিতেই তিন বছর মেয়াদী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছিল সংস্থাগুলো।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে হাম ও পোলিওর মতো সংক্রামক রোগগুলো নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এই সংকট মোকাবিলায় ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ উদ্যোগটি গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে এর চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার ৩৬টি দেশে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে ১০ কোটিরও বেশি ডোজ জীবনরক্ষাকারী টিকা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষত, এই শিশুদের মধ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ শিশুই আগে কখনো কোনো ধরনের টিকা পায়নি এবং প্রায় দেড় কোটি শিশু প্রথমবারের মতো হামের টিকা গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস এই অর্জনকে মহামারির অন্যতম বড় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্ন ঘটায় যেসব শিশু জীবনরক্ষাকারী সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এই কর্মসূচি তাদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও এই উদ্যোগের ফলে অনেক দেশের নিজস্ব টিকাদান অবকাঠামো আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা সহজ করবে।
আরও পড়ুন: পুষ্টি বৈষম্য ও ফাস্টফুড বর্জন করে স্বনির্ভর জাতি গঠনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
তবে এই সফলতার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে টিকাবিরোধী অপপ্রচার ও রাজনৈতিকীকরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।
সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে, যা নিয়মিত টিকাদানে দীর্ঘদিনের ঘাটতির ফলাফল।
ডব্লিউএইচওর ভ্যাকসিন বিষয়ক পরিচালক কেট ও’ব্রায়েন জানান, অভিভাবকরা টিকার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখলেও বর্তমানে স্বাস্থ্য ও টিকা বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে গ্যাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিশতার বলেন, আমরা এমন একটি ডিজিটাল পরিস্থিতির মোকাবিলা করছি যেখানে ঘৃণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য পরোক্ষ প্রণোদনা কাজ করে।
ইউনিসেফের টিকাদান বিষয়ক প্রধান এফ্রেম লেমাঙ্গো যোগ করেন যে, সামাজিক মাধ্যমে সঠিক তথ্যের চেয়ে উত্তেজনা বা বিতর্কিত বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে।
একইসঙ্গে বিদেশি সহায়তা হ্রাস পাওয়া এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে তহবিল সংকোচনের ফলে দীর্ঘদিনের অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। তাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








