News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ১৯ দিনেই রেমিট্যান্স ২১২ কোটি ডলার

ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ১৯ দিনেই রেমিট্যান্স ২১২ কোটি ডলার

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়ে বইছে সুবাতাস। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের যে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গিয়েছিল, তা এপ্রিল মাসে এসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা ২ দশমিক ১২৭ বিলিয়ন (২১২ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। একক মাসের হিসেবে দৈনিক গড় প্রবাহের এই হার বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রেমিট্যান্সের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। 

তিনি জানান, চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে (১-১৯ এপ্রিল ২০২৫) এই অঙ্ক ছিল ১ দশমিক ৭১৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এই ১৯ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশেষ করে গত ১৯ এপ্রিল একদিনেই দেশে এসেছে ১৫৯ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা সামগ্রিক প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ) ডলার রেমিট্যান্স আসার মাধ্যমে একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এপ্রিল মাসের বর্তমান গতিধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মাসেও রেমিট্যান্সের অংক নতুন কোনো রেকর্ড গড়তে পারে। এর আগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল যথাক্রমে ২০২৫ সালের মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই ধারা অব্যাহত রয়েছে; যার প্রমাণ মেলে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আসা যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলারের পরিসংখ্যানে।

আরও পড়ুন: ১৮ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯৭ কোটি ডলার

সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ দশমিক ৩৩৬ বিলিয়ন (২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৫০৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে অর্থবছরের নয় মাস ১৯ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল এ যাবৎকালের এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। বর্তমান প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে সেই রেকর্ড অনেক ব্যবধানে ভেঙে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ দেখছেন। তাদের মতে, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারেও। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১২২ টাকা বা তার বেশি বিনিময় হার পাওয়ায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা তাদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে। প্রথম ১৯ দিনে আসা ২১২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তবে এই ইতিবাচক ধারার মধ্যেও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা বাংলাদেশের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া জরুরি। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির মধ্যেও রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে এবং ডলার বাজারের অস্থিরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়