News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু নিশাতকে হত্যা: প্রতিবেশী গ্রেফতার

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু নিশাতকে হত্যা: প্রতিবেশী গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় নিখোঁজের দুই দিন পর উদ্ধার হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু নিশাত জাহান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতেই প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়া শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক ইছাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে চিপস কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মোহনপুর গ্রামের মো. আবু সাদেকের মেয়ে ও স্থানীয় ডিএমসি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত জাহান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি ঝোপ থেকে তার বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তা ও পারিপার্শ্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিবেশী মৃত জারু মিয়ার ছেলে ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ঘাতক ইছা মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে থেকে সে নিশাতকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিজের অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর দিনভর নবীনগর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই সময় ইছার স্ত্রী-সন্তানরা শ্বশুর বাড়িতে থাকায় বাড়িটি জনশূন্য ছিল। নির্জন ঘরে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে নিশাত কান্নাকাটি শুরু করে এবং বিষয়টি তার বাবা-মাকে বলে দেবে বলে জানায়। এই কথা শুনে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ইছা নিজের গেঞ্জি দিয়ে শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি একদিন ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রেখে পরদিন ১৭ এপ্রিল দুপুরে সুযোগ বুঝে পাশের ঝোপে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন: খুলনায় নিজের অস্ত্রের গুলিতে রেলপুলিশ সদস্যের মৃত্যু

এদিকে ইছাকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং অভিযুক্তের বসতঘর ও অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করেন। 

এলাকাবাসীর দাবি, মাত্র ছয় বছরের শিশুর সঙ্গে এমন পাশবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না; ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 

নিহতের নানা লোকমান হোসেন বলেন, আমার নাতনির সঙ্গে যা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। ঘাতকের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘাতক ইছা মিয়াকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। 

পিবিআই জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি স্পট পরিদর্শন করেছে এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়