পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল
ফাইল ছবি
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উত্তরাঞ্চলে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি এপ্রিল মাসে দফায় দফায় মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড পদ্মা অয়েল ডিপোতে এই ডিজেল আসা শুরু হয়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবীব চৌধুরী আমদানির এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের এই চালানটি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিপোতে সম্পূর্ণ পৌঁছাতে প্রায় ৫০ ঘণ্টা সময় লাগবে। সেই হিসেবে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ পাম্পিং কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপোর কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন এই ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রবাহ শুরু হয়, যা আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে ডিপোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, পর্যায়ক্রমে জ্বালানি গ্রহণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশে চার জাহাজে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল
ডিপো সূত্র অনুযায়ী, চলতি মাসে এটি একাধিক ধাপে আসা বৃহৎ পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনার অংশ। এর আগে ১১ মার্চ প্রথম দফায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে আসে। এরপর ২৮ মার্চ ৫ হাজার মেট্রিক টন, ৩১ মার্চ ৭ হাজার মেট্রিক টন, ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এভাবে মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমান ধাপসহ চলতি এপ্রিল মাসে মোট সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে পৌঁছাতে পারে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।
ডিপো কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমান ৫ হাজার মেট্রিক টন চালান সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল একই উৎস থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় কমছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে অধিক স্থিতিশীল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্বতীপুর ডিপো থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইপলাইনভিত্তিক এই সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








