নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১২ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান গভর্নরের

ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান গভর্নরের

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে কোনোপ্রকার উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নিশ্চয়তা প্রদান করেন। 

গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে গভর্নর বলেন, সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুরু করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্মিলিত এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই আমানত ফেরতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে। 

তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রয়োজন অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকে জরুরি তারল্য সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে আমানতকারীদের কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রসঙ্গে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি সঠিক নয় এবং ব্যাংকগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ নেই: এনবিআর

ব্যাংকটির চলমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে গভর্নর জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পাঁচ সদস্যের একটি পর্ষদ পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৬ মার্চ একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির কোনো ঋণ বা নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো নির্দেশনা দেয়নি। ঈদের ঠিক আগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়, কারণ এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক এবং পরিচালনা পর্ষদে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা বজায় রাখা জরুরি ছিল।

ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকটির অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা মার্চ মাসে বেড়ে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক তা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। যদিও পরিস্থিতি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নিয়ে ব্যাংক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যা জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ব্যাংকটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ব্যাংকটি তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছে এবং বুধবার (১০ জুন) অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনা করেছে। অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে গভর্নর বলেন, পাচারের টাকা ফেরানোর নজির কম থাকলেও তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং পাচারের অর্থ ফেরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

উক্ত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়