News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছে ভারত। 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসা এই প্রত্যর্পণ অনুরোধটি বর্তমানে দিল্লির সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।

মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়টি একটি আইনি ও কৌশলগত প্রক্রিয়া। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা অনুরোধটি আমরা খতিয়ে দেখছি। এই ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ভারত সকল অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন: নতুন উপজেলা গঠনের পথে বাংলাদেশ

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত দিক উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে দিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করার সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভারতের ইচ্ছা অত্যন্ত স্পষ্ট যেখানে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করতে চায় দিল্লি।

দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জয়সওয়াল জানান, উভয় পক্ষই বর্তমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা অমীমাংসিত ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। 

শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যু এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থান পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এই অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। একদিকে সাবেক মিত্রের অবস্থান এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দিল্লি এখন ‘গঠনমূলক আলোচনা’ ও ‘পর্যবেক্ষণ’ নীতিকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে প্রস্তাবিত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রশ্নে ভারত কী ধরনের আইনি যুক্তি বা কূটনৈতিক অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়