News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গল-আনন্দ নয়, এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপন

মঙ্গল-আনন্দ নয়, এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ কিংবা পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ কোনো নামই থাকছে না। এর পরিবর্তে এবার থেকে এই আয়োজনটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে। 

রবিবার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে বাংলা নববর্ষ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মন্ত্রী জানান, নববর্ষের এই শোভাযাত্রার নাম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সরকার তার অবসান ঘটাতে চায়। 

তিনি বলেন, আমরা কোনো বিভাজন বা সংঘাত চাই না। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নাম নিয়ে আমরা কোনো সংকট তৈরি করতে আগ্রহী নই। আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো—এটি আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়, বরং ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই পরিচিত হবে। এখন থেকে প্রতি বছর এই নামেই নববর্ষের মূল শোভাযাত্রাটি আয়োজিত হবে এবং এই নামকরণের বিষয়টি ইউনেস্কোকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না’

শোভাযাত্রার বিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের হাজার বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। অতীত থেকেই এটি নানা আয়োজনে পালিত হয়ে আসছে। এরশাদ সরকারের আমলে এটি ‘আনন্দযাত্রা’ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে পালিত হয়েছে। এমনকি গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করেছিল। 

মন্ত্রী মনে করেন, আনন্দ আর মঙ্গলের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই এবং উৎসব মূলত নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং উদযাপনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উৎসবের প্রস্তুতি সম্পর্কে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বৈশাখের এই আনন্দ উৎসবে যাতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পহেলা বৈশাখ ঘিরে বর্তমানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। পুলিশের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা টিমও মাঠে কাজ করবে।

এ সময় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাদুঘরের কিছু কারিগরি কাজ এখনো বাকি রয়েছে। কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া মাত্রই খুব দ্রুত এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আজকের এই সভায় বাংলা নববর্ষের পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারোসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব উদযাপনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়