News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৮, ৫ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সাশ্রয়ে আজ থেকে অফিসের নতুন সময়সূচি

জ্বালানি সাশ্রয়ে আজ থেকে অফিসের নতুন সময়সূচি

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রবিবার (০৫ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল অফিস সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হবে। 

শনিবার (০৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার পর আজ থেকেই নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বহাল থাকবে। তবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, চিকিৎসা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যমসহ জরুরি পরিষেবাগুলো এই সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে।

একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক খাতেও সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও গ্রাহক লেনদেন সীমিত করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা ও বুথগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

আরও পড়ুন: সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল

পুঁজিবাজারেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষের সময় আধাঘণ্টা এগিয়ে এনে দুপুর ২টা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের আন্তঃলেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা- বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) এর সময়সীমাও কমিয়ে আনা হয়েছে।

সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। যদিও ব্যবসায়ী নেতারা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার প্রস্তাব দেন, সরকার আপাতত আগের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে।

আদালত ও শিল্প খাতের সময়সূচি নির্ধারণে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হবে। আদালতের কার্যক্রমের সময় নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট এবং শিল্প-কারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম আইনের আওতায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আংশিক অনলাইন ও আংশিক সশরীর পাঠদানের একটি মডেল বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। তবে প্রাথমিক স্তরে অনলাইন শিক্ষার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকেই আসবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একই ধরনের সময়সূচি চালু করা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের জুনে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আবারও অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়